আবারো চবির শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, নারী শিক্ষার্থী রক্তাক্ত

আবারো চবির শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, নারী শিক্ষার্থী রক্তাক্ত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক নারী শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীর নাম ইমু মনি জ্যোতি। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (IR) বিভাগের ছাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছালে বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর সরাসরি তার নাকে আঘাত করে। এতে নাকের নিচ থেকে উপরের ঠোঁট পর্যন্ত গভীরভাবে কেটে যায়।

ঘটনার পর শাটলে থাকা শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক সহায়তা দেন এবং দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠান। সহপাঠীদের জানানো তথ্য অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থীর ঠোঁটে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।

ইমু মনি জ্যোতির সঙ্গে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার সময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছাতেই বাইরে থেকে শাটলের দিকে পাথর ছোড়া হয়। এতে ইমুর ঠোঁটের ওপরের অংশ কেটে যায় এবং গুরুতরভাবে আহত হয়।

আরেক শিক্ষার্থী এস এম আবদুল আলীম বলেন, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের শাটল ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আসা মাত্রই বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে শাটলে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ইমু মারাত্মকভাবে আহত হন। তার উপরের ঠোঁট প্রায় দুই ভাগ হয়ে কেটে যায়। কয়েকজন মিলে তাকে প্রথমে চবি মেডিকেলে নিয়ে যাই, সেখান থেকে চমেকে পাঠানো হয়। পরে বিভাগের এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি, তার অপারেশন করতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা কি কোথাও নিরাপদ নই? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে?

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্ট ও আশপাশের এলাকায় ছিন্নমূল মানুষ, ছিনতাইকারী এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে নারী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হয়রানি ও বাজে অঙ্গভঙ্গির শিকার হন। তাদের মতে, শাটল ট্রেন এখন নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, পাথর নিক্ষেপে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে এক বৃদ্ধকে আটক করে শিক্ষার্থীরা পরে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি একই এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিনতাইকারীর ধস্তাধস্তির অভিযোগও সামনে আসে। এছাড়া সরে জমিনে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন হয়ে গেলে দেখা যায় ক্যান্টনমেন্ট লাগোয়া দেওয়াল ঘেঁষে পুরো এলাকাটি হয়ে উঠেছে মাদকের অভয়ারণ্য। এসব ঘটনার পর শাটল ট্রেন ও স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। 


সম্পর্কিত নিউজ