{{ news.section.title }}
হল দখলের খবর প্রকাশে চবি সাংবাদিককে হুমকি, চবিসাস-চাকসু-শিবিরের প্রতিবাদ
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এম. মিজানুর রহমানকে পাহাড়ে নিয়ে মারধরের হুমকির ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হল সংসদ, চবি এরাবিক ডিবেটিং ক্লাব ও রাঙামাটি জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন । ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া পৃথক ও যৌথ বিবৃতিতে তারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিক দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
চবিসাসের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ প্রকাশের জেরে স্টার নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও চবিসাস সদস্য এম. মিজানুর রহমানকে আবাসিক হল থেকে টেনে নিয়ে পাহাড়ে উঠিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর নির্মম আঘাত। এমন আচরণ গণতান্ত্রিক সমাজে সন্ত্রাস কায়েমের নগ্ন চেষ্টা বলেও উল্লেখ করা হয়। ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চবিসাস।
এছাড়া চবিসাস সভাপতি জানে আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্র এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
চাকসু কর্তৃক প্রকাশিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলকর্মী মো. আব্দুস সালাম সালমান অবৈধভাবে শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হলে অবস্থান করছিল। হলে অবৈধভাবে সিট দখলের সংবাদ প্রকাশ করায় গত সোমবার রাতে স্টার নিউজের চবি প্রতিনিধি এম. মিজানুর রহমানকে পাহাড়ে উঠিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিফাতুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়।
চাকসুর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অবৈধ সিট দখল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে স্টার নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে পাহাড়ে নিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্রশিবির।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মাদকে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী অবৈধভাবে থাকছেন হলে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের জেরে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিককে এভাবে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, হলে অবৈধভাবে সিট দখল করে অবস্থান করাও যেমন নিন্দনীয়, তেমনি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে অবহেলাও স্পষ্ট। অবিলম্বে হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হল সংসদের দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, হলে সাংবাদিককে মারধরের হুমকি ও অবৈধভাবে মাদকসেবীর অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে হল সংসদ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।
হল সংসদের ভিপি মো. শরিফুল ইসলাম ও জিএস মাসউদুর রহমান ফাহাদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের হুমকি স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা এবং হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে চিটাগং ইউনিভার্সিটি এরাবিক ডিবেটিং ক্লাব। পাশাপাশি বিবৃতির মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে এম. মিজানুর রহমানকে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মাদকে অভিযুক্ত চবি ছাত্রদল কর্মী অবৈধভাবে থাকছেন হলে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের জেরে শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিফাতুল ইসলাম নিজেকে সালমান পরিচয়ে উপস্থাপন করে সাংবাদিককে হল থেকে টেনে নিয়ে নীরা পাহাড়ে উঠিয়ে মারধরের হুমকি দেন। ওই কথোপকথনের কল রেকর্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।