{{ news.section.title }}
ইসলামী বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগে বৈষম্য বন্ধের দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
প্রভাষক নিয়োগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আল কুরআন, আল হাদিস, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ বিভাগের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন নীতিমালার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় শিক্ষার্থীদের 'অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়', 'একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন', 'অনার্সে যোগ্যতা, তবুও কেন বঞ্চনা', 'একই পদ একই কাজ, বৈষম্য কেন আজ', 'একই পদ একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন আজ?', '২৪ এর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এসময় শিক্ষার্থীরা তিনদফা দাবি উত্থাপন করেন।দাবিগুলো হল:
১. মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষকের ক্ষেত্রে আবেদনের শর্ত থেকে মাস্টার্স বাদ দিয়ে অনার্স করতে হবে। যদি না করা হয় তাহলে যাদেরকে অনার্স দিয়ে প্রভাষকের আবেদনের সুযোগ দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও সমান করে তাদের ক্ষেত্রেও মাস্টার্স প্রাধান্য করতে হবে।
২. কামিল-এ বিষয় ভিত্তিক ৪ জন করে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, আদিব, ফকিহ এগুলো থাকার কথা ছিল। কেননা বিগত সময়ে ৮০০ মার্কের পরীক্ষা হতো এখন ১৭০০ মার্ক। ঠিক! সেই জায়গা থেকে আপনারা শিক্ষক বাড়ানো তো অনেক পরের কথা আপনারা কমিয়ে দিয়েছেন। ঠিক! আমরা চাই এখানে যেভাবে সাবজেক্ট বৃদ্ধি পেয়েছে সেইভাবে সকল ক্যাটাগরিতে শিক্ষক বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. অনার্স দিয়ে সহকারী মৌলভীর জন্য বিএড ছাড়া আবেদন করতে পারবে এবং সেটা দশম গ্রেডের হতে হবে।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, এই তিনটি দাবি আজকে আমাদের এবং তিনটি দাবি নিয়ে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা এই দাবিগুলো পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমাদের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিচ্ছি। এই ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের মধ্যে যদি আপনারা এটার সুষ্ঠু সুরাহা করতে না পারেন তাহলে আজকে আমরা যেমন সুন্দরভাবে দাঁড়িয়েছি, আমরা যেমন শান্তভাবে দাঁড়িয়েছি, আমরা অশান্ত হতেও জানি। ঠিক! আমরা অশান্ত হলে কী হবে সেটা আপনারা কয়েকদিন আগে ২০২৪-এর আন্দোলনে প্রত্যক্ষ করেছেন। ঠিক!
তারা আরও বলেন, যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে আজকে শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে দাঁড়িয়েছি, আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সারা দেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সাথে নিয়ে এমন আন্দোলন গড়ে তুলবো যা আপনাদের গদিকে নাড়িয়ে দিতে অনেকটাই সহায়তা করবে।
এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, আমরা ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে ভেবেছিলাম যে এই দেশ থেকে বৈষম্য চিরতরে বিতাড়িত হবে। কিন্তু বৈষম্যকারীরা স্তরে স্তরে এখনো বসেই আছে। বৈষম্যকারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে লেগেছে। মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে লেগেছে। ইসলামী যে সাবজেক্টগুলো আছে, ইসলামী শিক্ষাভিত্তিক যে সাবজেক্টগুলো, সে সাবজেক্ট ছাড়া অন্যান্য সাবজেক্টগুলো থেকে শুধুমাত্র সম্মান হলেই তারা সম্মানের সাথে প্রভাষক হতে পারে। কিন্তু মাদ্রাসার ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? এই জবাব আমি এনটিআরসিএ-র কাছে চাই।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার যে শিক্ষক নিবন্ধন শিক্ষক নিবন্ধনের যে সংখ্যা ছিল শিক্ষক নিবন্ধনের শিক্ষক নেওয়ার যে সংখ্যা ছিল সে সংখ্যাকেও কমিয়ে আনা হয়েছে। শুধুমাত্র এই দেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে চিরতরে উচ্ছেদ চিরতরে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য। অনার্সের ক্ষেত্রে যারা হচ্ছে দশম গ্রেডে চাকরি পাইতো এখন তাদের অনার্সের ক্ষেত্রে আবার হচ্ছে বিএড পরীক্ষার যে সনদ সেই সনদকেও শর্ত লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এগুলি ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের যে অংশ সেই অংশের প্রতিফলনে আমরা এই বাংলাদেশে দেখতে পাচ্ছি। আমরা চাই আমরা এই জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, শহীদ আনাস যেভাবে যে জন্য রক্ত দিয়েছেন সেই বৈষম্যহীন একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি। আমরা চাই সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হোক। এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সারথি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পূর্বেও ছিল এখনো আছে ভবিষ্যতেও আপনাদের সাথে থাকবে।
ইবি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, এই স্বাধীন ভূখণ্ডে, এই আজাদীর লড়াই আপনারা জানেন যে যারা ইতিহাসের ছাত্র ১৮৫৭ সালে যে সিপাহী বিদ্রোহ বা মহাবিদ্রোহ হয়েছিল প্রায় শুধুমাত্র আলেমরা শুধুমাত্র বৈষম্য নিরসনের জন্য ৫০ হাজারের উপরে শাহাদাত বরণ করেছিল। ৪৭-এর আজাদীর আন্দোলন পরবর্তীতে ৬৯, ৭১ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২৪-এ। আমরা যখন পুরো বাংলাদেশ যখন আন্দোলনে কাঁপছে সেই সময় শুধুমাত্র জুলাইয়ের ১৭ তারিখ থেকেই যাত্রাবাড়ি পুরো যাত্রাবাড়ি এলাকা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
তিনি আরও বলেন, যারা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেসকল নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই আপনাদের আর কোনো জান যাতে দিতে না হয়। আপনারা প্রয়োজন হলে যেভাবে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন একইভাবে এনটিআরসিএ-কেও তারা পদচ্যুত করবেন। প্রয়োজন হলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আপনারা সাথে নিয়ে মার্চ টু এনটিআরসিএ আপনারা ঘোষণা করুন এবং এই এনটিআরসিএ-কে বাধ্য করুন। পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সাবেক অ্যালামনাই আছে তাদের সাথে আপনারা যোগাযোগ স্থাপন করুন। কিন্তু কোনোভাবেই আমরা একটিও প্রাণ আর ঝরে যেতে দিতে পারি না।