{{ news.section.title }}
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশাচালকচক্রের প্রতারণা , দর্শনার্থীদের জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা একদল দর্শনার্থী শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন রিকশাচালককে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশাচালকদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তৎপরতা প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী তিনজন রিকশাচালককে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এদিন একসাথে তিনজন মেয়ে ও চারজন ছেলে দর্শনার্থী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ঘুরতে আসেন। তারা এক নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার জন্য রিকশায় ওঠেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রিকশাচালকরা তাদের পরিচয় জানতে চান এবং কথাবার্তার এক পর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন। কৌশলে দলটির দুজন বাকিদেরকে চলে যেতে বললে পরিস্থিতি আজ করে তারা স্থান ত্যাগ করে । পরে বাকি দুজনকে আটকে রেখে তাদের সঙ্গে থাকা মেয়েদের খোঁজ করতে থাকে রিকশাচালকরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সঙ্গে থাকা মেয়েদের খোঁজে তাদের পুরো ক্যাম্পাসে ঘুরিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে এলে পেট্রোলিংয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনার সত্যতা উঠে আসে। এ সময় অভিযুক্ত রিকশাচালকরা নিরাপত্তা কর্মীদের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী এক দর্শনার্থী শিক্ষার্থী জানান, রিকশাচালকরা তাদের আটকে রেখে বলে মেয়েদের এনে দিতে, নইলে ছাড়া হবে না। তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করে এবং তাদের মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ কেড়ে নেয়। টাকা না দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আটককৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। চক্রটির মূল হোতা লোকমান (৩২)। তার সঙ্গে তার ভাই রাশেদ ও পিতা জুনু জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থীদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার সময় আগত পরীক্ষার্থীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহফুজ বলেন, রিকশাচালকদের হয়রানি নিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। কিন্তু এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকস নিরাপত্তা টিমের তৎপরতায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এর আগেও দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিডি করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের দ্রুত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।