{{ news.section.title }}
চবি ক্যাম্পাসে ছিনতাইচক্র আটক হলেও থানায় গিয়ে ‘ছেড়ে দেওয়া’, প্রশ্নের মুখে চবি প্রক্টরের ভূমিকা
- Author, চবি প্রতিনিধি
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দর্শনার্থী শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক হওয়া রিকশাচালক চক্রের সদস্যদের থানায় নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী প্রাথমিকভাবে ছিনতাইকারীদের আটক করলেও পরবর্তীতে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় গিয়ে দুইজন প্রক্টরের পরামর্শে অভিযুক্তরা মুক্তি পায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা একদল দর্শনার্থী শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রিকশাচালক লোকমান, তার ভাই রাশেদ কে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী। এবং জানা যায় তাদের বাবা জুনু ও এধরণের ঘটনার সাথে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযুক্তদের নিয়ে হাটহাজারী থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী থানায় পৌঁছানোর প্রায় আধাঘণ্টা পর জানা যায়, এরই মধ্যে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ কোনো ভিডিও বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও মৌখিকভাবে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ফোনকল ও পরামর্শের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও থানায় কোনো লিখিত নির্দেশ বা আনুষ্ঠানিক নথির কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
ঘটনাটি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে রিকশাচালকদের হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। হাতেনাতে আটক হওয়ার পরও যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি শহরে একটি অনুষ্ঠানে আছেন এবং পরে বিস্তারিত কথা বলবেন। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন রিসিভ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভর্তি পরীক্ষা ও বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে আগত দর্শনার্থীদের হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল একই চক্রের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এই ঘটনায় অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।