{{ news.section.title }}
জাবি শিক্ষকের নামে বাস ভাঙচুর ও চালককে মারধরের অভিযোগ
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সাভারের ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে বাস ভাঙচুর এবং চালককে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক শিক্ষকের নামে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম পলাশ সাহা। তিনি আইবিএ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সাভার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ডেইরি গেট এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য থামানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই পাশ দিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান চলে এলে তিনি হঠাৎ ব্রেক কষেন এবং মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাসে উঠে চালকের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চালক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষক তার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন। এতে ভাঙা কাঁচের আঘাতে বাসচালকের মাথা কেটে রক্তপাত হয় এবং বাসে থাকা এক নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যায়। এছাড়া তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
আহত চালক ও নারী যাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চালককে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ডেইরি গেট পর্যন্ত বাসে পৌঁছে দেন। অভিযোগ রয়েছে, বাসে ওঠার সময় আইবিএ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী চালককে পুনরায় মারধর করে এবং আবারও ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। এদিকে আহত নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যাওয়ায় এক্স-রে করানোসহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে বাস চালকের সাথে দুই হাজার টাকায় বিষয়টি দফারফা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আহত নারী যাত্রীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন,
আমাদের বাসটি তখন থামানো ছিল। শিক্ষক নিজে গাড়ি ব্যাক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান, এতে বাসের কোনো দোষ ছিল না। তিনি পরিচয় দেওয়ার পর আমরা তাকে শান্ত হতে বলি। কিন্তু তিনি উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং হেলমেট দিয়ে বাসের কাঁচ ভেঙে ফেলেন। এতে আমার মেয়ের মাথা ফুলে গেছে, আঙুল ভেঙে গেছে। ড্রাইভারের মাথাও ফেটে গেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক সমাজের কারিগর। তার আচরণে মানবতা ও সংযম থাকার কথা। কিন্তু তার মধ্যে চরম আক্রোশ দেখেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
বাস চালক আতিক চৌধুরী বলেন, "উনারা আমাকে কয়েকবার মেরছে। আমি কিছুই করিনি, তবু আমাকে ডেকে নিয়ে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে আমি ভুক্তভোগী হয়েও অপরাধীর মতো দাঁড়িয়েছি। চিকিৎসার জন্য সামান্য টাকা দিয়েছে, কিন্তু এরপরও ছাত্ররা আমাকে পথে পথে আটকায়, হুমকি ও মারধর করে দেয়। এখানে শ্রমিক হিসেবে আমাদের কোনো সুরক্ষা নেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের সামনে এক বাসচালক বাসটি রাস্তার মাঝবরাবর রেখেছিল। আমি তাকে অতিক্রম করার সময় একটি চলন্ত পিকাপ থেকে নিজেকে সেভ করতে ব্রেক করলে আমি পরে যাই। পরে বসে উঠে আমি ড্রাইভারকে বারবার বলেছি বাস সরাতে, কিন্তু সে শোনেনি। একসময় রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। শিক্ষক হিসেবে এটা আমার করা ঠিক হয়নি। আমি আমার ভুলটা স্বীকার করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বিষয়টি নিয়ে সবার সাথে কথা বলতেছি । সিদ্ধান্ত বিষয়ে পরে জানানো হবে ।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহার বিরুদ্ধে এর আগেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।