চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ থেকে শুরু সিইউএসডি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ থেকে শুরু সিইউএসডি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা
  • Author, চবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মুক্তচিন্তার দীপ্ত উচ্চারণ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের আবহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ থেকে শুরু হয়েছে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডিবেট (CUSD)-এর আয়োজনে ‘৩য় সিইউএসডি জাতীয় বিতর্ক উৎসব’। সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ইপসা (Young Power in Social Action – YPSA)-এর নিবেদনে দুই দিনব্যাপী এই জাতীয় আয়োজনের প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদ অডিটোরিয়ামে।

“ভাঙো রুদ্ধ চিন্তার বেষ্টনী” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসবের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী মনন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলা। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং ইপসা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি করে প্রাণবন্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ।
উৎসবের প্রথম দিনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তঃস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এশিয়ান পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিতার্কিকরা।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৪টি দল এবং আন্তঃস্কুল ও কলেজ বিভাগে ১৮টি দলে প্রায় দেড় শতাধিক  বিতার্কিক এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। দুইটি ট্যাব রুম ও ২৩টি ডিবেট ভেন্যুতে একযোগে বিতর্ক সেশন পরিচালিত হয়।

প্রথম দিনেই টানা চারটি ট্যাব রাউন্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আয়োজন করা হয় কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল পর্ব। প্রতিটি রাউন্ডে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, যুক্তির শাণিত প্রয়োগ এবং সাবলীল উপস্থাপনায় বিতার্কিকরা বিচারক ও দর্শকদের দৃষ্টি কেড়ে নেন।

অনুষ্ঠানে  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিইউএসডি-এর মডারেটর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক তুনাজ্জিনা সুলতানা। এছাড়া ইপসার প্রজেক্ট অফিসার (মিল) এস. এম. শাহরিয়ার আলম দুর্যোগ মোকাবেলা ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক একটি সেমিনার পরিচালনা করেন।

বাংলাদেশ মহিলা সমিতি গার্লস স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক তাসনিয়া তাজনিন বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সহায়ক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। এখানে এসে সিনিয়র বিতার্কিকদের কাছ থেকে নতুন নতুন বিষয় শেখার সুযোগ পাচ্ছি। তাদের প্রতিটি বক্তব্যই তথ্যসমৃদ্ধ । তিনি বলেন, বিতর্ক করতে হলে বিস্তৃত জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, আর এই আয়োজনে অংশ নিয়ে সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ মিলছে, যা আমার জন্য খুবই সহায়ক এবং ভালো লাগার মতো অভিজ্ঞতা। তাসনিয়া তাজনিন আরও জানান, যেসব বিষয়ে এখানে বিতর্ক আয়োজন করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে তার পূর্ব পরিচিতি ছিল। সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতা থেকে ভালো অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করছেন তিনি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে আগত বিতার্কিক আরবিনা মুনতাহা বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থী হয়েও কেন বা কীভাবে বিতর্ক করেন— এ প্রশ্নের মুখোমুখি তাদের প্রায়ই হতে হয়। পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপের মাঝেও বিতর্ক তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সাজানো-গোছানো ক্যাম্পাস; একাডেমিক বিল্ডিং ও হাসপাতালকেন্দ্রিক যান্ত্রিক জীবন থেকে এখানে এসে অনেক বেশি ভালো লাগছে। এখানে মেডিকেলের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে অর্থনীতি, খেলাধুলা ও রাজনীতি নিয়ে যুক্তিতর্ক করতে হয়, যা পড়াশোনার স্ট্রেস রিলিজের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তিনি আরও জানান, প্রতিযোগিতায় উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ছিল—প্রথমে স্পোর্টস, পরে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করছেন তিনি।

আয়োজক ও সিইউএসডি’র সভাপতি মো. ইকরাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সিইউএসডি গত ১৭ বছর ধরে বিতর্ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিয়ে কাজ করে আসা একটি সংগঠন। গত মাসেই জাতীয় বিতর্ক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং তা বাস্তবায়নে সংগঠনের বিতার্কিক ও সদস্যরা ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। তিনি জানান, সারা দেশ থেকে ৫০টির বেশি দল এবং প্রায় অর্ধশত বিচারক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে সুন্দর ও সফলভাবে এই জাতীয় বিতর্ক উৎসব সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইপসার প্রজেক্ট ম্যানেজার এস. এম. শাহরিয়ার আলম বলেন, এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ইপসার চলমান একটি প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো আর্লি ওয়ার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানো, যেখানে পাহাড়ধস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় এই বিষয়সংশ্লিষ্ট বিতর্ক আয়োজিত হতে দেখে তারা পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্ত হন, কারণ যেসব বিষয় ইপসা প্রচার করতে চায়, সেগুলো নিয়েই এখানে যুক্তিনির্ভর আলোচনা হচ্ছে।

এস. এম. শাহরিয়ার আলম আরও জানান, এই আয়োজনে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থাকায় তরুণদের মাঝে তাদের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হচ্ছে। তিনি বলেন, একাধিক মোশন ও বিতর্ক পর্যবেক্ষণ করেছেন, যার মধ্যে অসতর্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনাসহ বিভিন্ন হাউসে চমৎকার বিতর্ক হয়েছে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন নতুন আইডিয়া উঠে আসাই তাদের প্রত্যাশা ছিল, আর বিতার্কিকরা সেগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য যে , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সিইউএসডি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও বহুল প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ফাইনাল আগামীকাল শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।


সম্পর্কিত নিউজ