চবির ২৭ সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন প্রার্থী, সংসদে যাচ্ছেন ৮ জন

চবির ২৭ সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন প্রার্থী, সংসদে যাচ্ছেন ৮ জন
  • Author, চবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Rubel Islam

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক ২৭ জন ছাত্রনেতা বিভিন্ন দল ও জোটের হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজন বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। বিজয়ীদের অধিকাংশই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

চবির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ আসনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তবে আপিল বিভাগে মামলা চলমান থাকায় এই আসনের ফলাফল নির্বাচন কমিশন স্থগিত রেখেছে। খাগড়াছড়ি আসনে সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও চবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে জয় পান।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আইন অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমান আযাদ। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

ফেনী-২ আসনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জয়নাল আবদীন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে নেত্রকোনা-৩ আসনে ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী চবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

এবারের নির্বাচনে চবি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাবেক ২৭ জন নেতাসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন পান ১০ জন এবং জামায়াত জোট ও অন্যান্য প্রতীকে নির্বাচন করেন ১৭ জন।

জামায়াত জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উল্লেখযোগ্য সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সবাজার-২), অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার (ঢাকা-১০), মজিবুর রহমান মঞ্জু (ফেনী-২), মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার (চট্টগ্রাম-৩), অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান (চট্টগ্রাম-১), কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (কুমিল্লা-৬), অধ্যক্ষ নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-২), অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী (চট্টগ্রাম-১০) ও ড. ফয়জুল হক (ঝালকাঠি-১)।

এছাড়া অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান (চট্টগ্রাম-১৩), শফিউল আলম (চট্টগ্রাম-১১), একে করিম (চট্টগ্রাম-০২), অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন (ফেনী-১), ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী (কুমিল্লা-৯), অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী (খাগড়াছড়ি-২৯৮), অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০১) ও জয়নুল আবেদীন (সিলেট-৪) নির্বাচনে অংশ নেন।

সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৃজিতা বলেন  আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জন সাবেক ছাত্রনেতা প্রার্থী হওয়া প্রমাণ করে ক্যাম্পাস এখন শুধু রাজনীতির অনুশীলন ক্ষেত্র নয়, ক্ষমতার সরাসরি করিডর। ৮ জনের সংসদে যাওয়া দেখায়, ছাত্ররাজনীতি এখনো জাতীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে কার্যকর লঞ্চপ্যাড। তবে কথা একটাই ক্যাম্পাসের মিছিল থেকে উঠে এসে যদি সংসদে গিয়ে নীরব দর্শক হয়ে যান, তাহলে এই সাফল্য শুধু সংখ্যা হয়েই থাকবে। ইতিহাসে জায়গা করতে হলে সাহসী, স্বচ্ছ ও জনমুখী অবস্থানই তাদের আসল পরীক্ষা।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী হাওলাদার মোহাম্মদ নাসিমের মতে, আরো বেশি সংখ্যক নির্বাচিত হলে খুশি হতাম । তবে বর্তমান চাকসু কাগজে কলমে না থেকে যদি বাস্তবে ভূমিকা রাখে তাহলে ভবিষ্যতে আরো নেতৃত্ব উঠে আসবে পরবর্তীতে তাদের সংসদে দেখতে পাওয়া যাবে ।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেকদের উপস্থিতি সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।


সম্পর্কিত নিউজ