{{ news.section.title }}
নির্বাচন পরবর্তী ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে জবি ইউটিএল-এর সংবাদ সম্মেলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও যুক্তিবাদী চিন্তার কেন্দ্র। এই পরিবেশ রক্ষা করা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী-সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে এবং সবার স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা অস্থিরতার পরিবেশ শিক্ষাঙ্গনের জন্য অনুকূল নয়। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি বলে মনে করে ইউটিএল।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনটি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে সহিংসতা, প্রতিহিংসা ও ভীতির কোনো জায়গা থাকবে না। সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব নাগরিক নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। একই সঙ্গে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইনের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনই স্থিতিশীলতার ভিত্তি।
শিক্ষাঙ্গনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা শালীন ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সমাধানযোগ্য হতে হবে। হুমকি বা চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি পরিহার করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই হওয়া উচিত। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত হলেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠবে।
ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, দেশের মানুষ 'হ্যাঁ' ভোটকে বিজয়ী করার মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে গৃহীত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই রায় কার্যকর করবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়। সবার সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্পূরক বৃত্তির বিষয়ে আমরা একাধিকবার প্রশাসন এর সাথে বসেছি। বৃত্তির কমিটিতেও আমরা আছি। বৃত্তির অবস্থান সম্পর্কে প্রশাসনই ভালো বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য এসময় জবি ইউটিএল-এর আহ্বায়ক কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু লায়েক এবং সদস্য সচিব আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।