রাবিতে ক্যাব'স প্রপোজড এনার্জি ট্রানজিশন পলিসি- ২০২৪ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাবিতে ক্যাব'স প্রপোজড এনার্জি ট্রানজিশন পলিসি- ২০২৪ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
ছবির ক্যাপশান, ক্যাব'স প্রপোজড এনার্জি ট্রানজিশন পলিসি- ২০২৪ শীর্ষক সেমিনার
  • Author, রাফাসান আলম, রাবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গ্ৰীন ভয়েসের সহযোগিতায় কনজুমারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) আয়োজনে 'ডায়লগ উইথ স্টুডেন্টস্ অন ক্যাব'স প্রপোজড এনার্জি ট্রানজিশন পলিসি ২০২৪ পর অ্যা যাস্ট ট্রানজিশন' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী অ্যাকাডেমিক ভবনের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডিসি) গ্যালারিতে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

মাহিন আলম'র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্যে গ্রীন ভয়েস এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসান হাবীব বলেন, ক্যাব জ্বালানি সুবিচার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দেশব্যাপী  কার্যক্রম করে আসছে। প্রোগ্রামের একটি অংশ স্পেশালি স্টুডেন্টদের জ্বালানি বিষয়ে সচেতন করা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রাবিতে আয়োজন করা হয়েছে।

সেমিনারে ক্যাব সদস্য সচিব আলমগীর কবির বলেন, বাংলাদেশের  জালানি খাতে দেড় দশকে যে সরকার ক্ষমতায় ছিলো তাদের কর্মকান্ড। সে কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে আমরা দেখলাম জালানি খাতটাকে তারা আমদানি নির্ভর এবং মুনাফা মুখি একটা খাতে পরিনত করেছে। জালানি খাতকে পুরোপুরি ভারত এবং বিদেশি যে জালানি আমদানি নির্ভর করে তুলেছে। নিজেস্ব গ্যাস উত্ত্বলোন হইনি, নিজেস্ব বিদ্যুতের দিকে ফোকাস করার তুলোনায় ভারত আমদানি করার মতো কর্মকান্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ জালানি খাতকে তারা মুনাফা মুখি কস্ট প্লাস বেসিসে পরিচালনা করার কারনে এর ব্যায় অতিরিক্ত পরিমানে বেড়ে গেছে। উপরজিপরি মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে এবং ভোক্তা কোনো ধরণের স্বস্তিতে নেই।


তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎও আমরা দেখেছি যে আমদানি নির্ভর হওয়ার কারণে জালানি খাতে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে, বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি থাকা সত্ত্বেও সেটা ব্যাবহার করা যাচ্ছে না। বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি ব্যাবহার করতে গেলে আবার দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই যে সংকট গুলো এগুলো জালানি খাতকে একেবারে ইচ্ছা মাফিক চালানোর ফলাফল হিসেবে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জালানি খাতে যদি আমরা সুবিধার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা যদি এনার্জি ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, জালানি খাতকে যদি একটা বৈষম্যহীন জালানি খাত করতে চাই যাতে ধনি ও গরিবরা একই ধরনের মানসম্মত জালানি পাবে। বলতে গেলে জালানি খাতকে আজকে একটা ট্রানজেশনে যেতে হবে, যে ট্রান্জেশনটা হতে হবে ন্যাজ্যতার ভিত্তিতে। ন্যাজ্যতার ভিত্তিতে জালানি খাতের রুপান্তর কিভবে হতে পারে সে জন্যই কাজ করছে কনজিউমার সেশন অফ বাংলাদেশ।  আমরা ছাত্রের সংগে তরুনদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি যাতে তারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে। জালানি খাতের বৈষম্য নিয়ে লড়াই করতে পারে।

ক্যাবের রিসার্চ ফেলো আনিস রায়হান বলেন, আজ বাংলাদেশ কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) ও গ্ৰীন এর যৌথ উদ্যোগে এনার্জি ট্রানজিশন বিষয়ক যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ক্যাবের উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত এনার্জি ট্রানজিশন পলিসি, সেটি নিয়ে যুব সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের জ্বালানি খাতে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি খাতকে পুঁজি করে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও কোম্পানি লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে। এসব বিষয় সম্পর্কে জনসাধারণ ও ছাত্রসমাজকে সচেতন করতেই আমাদের এই সেমিনারের আয়োজন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে যুবসমাজ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা আশাবাদী, যুবসমাজ জ্বালানি খাত নিয়েও ভাববে এবং ভবিষ্যতে দেশের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। কারণ তারাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

সেমিনারে প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়া ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে জ্বালানি সুবিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও আর রাফি সিরাজী ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি ২০২৪ নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব গ্ৰীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির  এবং ক্যাবের প্রকল্প কর্মকর্তা সায়েদুল আবরার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা।

প্রসঙ্গত, সেমিনার শেষে শিক্ষার্থীরা জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা এবং একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী ভোক্তা অধিকার সংগঠন। এটি বাংলাদেশে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষাপণ্যের গুণমান নিশ্চিতকরণ, কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে। ক্যাব নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে, গ্রীন ভয়েস বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা ২০০৫ সালে "যুবরাই লড়বে, সবুজ পৃথিবী গড়বে" স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের সংগঠিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে দেশজুড়ে ১৬০টিরও বেশি ইউনিটের মাধ্যমে সংগঠনটি শব্দদূষণ রোধ, বৃক্ষরোপণ, নদী রক্ষা এবং পলিথিনমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে শব্দদূষণ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।


সম্পর্কিত নিউজ