১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাবি প্রশাসনের গণ-ইফতার আয়োজন

১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাবি প্রশাসনের গণ-ইফতার আয়োজন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে গণ-ইফতার আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বর এবং ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ নির্ধারণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আসরের নামাজের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে থাকেন। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বসার জায়গা ঠিক করছেন, কেউবা ইফতার সামগ্রী সংগ্রহে ব্যস্ত। মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় ছিল শান্ত, ধর্মীয় আবহ। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়ে। সারিবদ্ধভাবে বসে সবাই অপেক্ষা করেন আজানের।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আল মাহমুদ বলেন, এই আয়োজন ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একসঙ্গে ইফতার করার অনুভূতি সত্যিই ভিন্নরকম।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন তুহিনা বলেন, হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো ইফতারে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। বিশেষ করে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক স্থানে আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আয়োজন প্রতিবছর অব্যাহত থাকুক, সেটিই প্রত্যাশা।

ইফতার করতে এসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা মসজিদ প্রাঙ্গণে এবং ছাত্রী বোনেরা শহীদ মিনার চত্বরে ইফতারে অংশগ্রহণ করছেন। সবমিলিয়ে গোছানো ও প্রশংসনীয় আয়োজন সত্যিই আনন্দের।

তিনি আরো বলেন, এমন একটি মিলনমেলার আয়োজন করার জন্য আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ভাই ও বোনদের প্রতি অনুরোধ, আমরা যেন শেষ পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই আয়োজনকে সফল করতে পারি। সকলের সহযোগিতাই পারে এই সুন্দর উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করে তুলতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করা এবং রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন। আইডি কার্ড যাচাই করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দিন বলেন, ইফতার মাহফিল পরিচালনার জন্য উপাচার্য কর্তৃক একটা কমিটি করা হয়েছে। তারা এখানে দায়িত্ব পালন করছে। সাথে রাকসু এবং হল সংসদের নেতৃবৃন্দ কাজ করছে। এছাড়াও হল প্রভোস্ট সহ অন্যান্য শিক্ষকদের কমিটি করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে। রাকসু, হল সংসদ, বিএনসিসি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও
রোভার স্কাউট সহ চারশত প্লাস ভলেন্টিয়ার কাজ করছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের কলকাকলীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, ভালো একটা আয়োজন হবে বলে আমরা আশা করছি এবং সবাইকে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারও আমরা আনন্দিত যে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে একসাথে বসে কিছু সময় কাছাকাছি থাকতে পারছি এবং সবার সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করে নিতে পারছি, এটাই আমাদের প্রকৃত আনন্দ। শিক্ষার্থীদের হাসি ও খুশিতেই আমাদের খুশি।

সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদের পাশাপাশি বিএনসিসি, স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের স্বেচ্ছাসেবকেরা সহযোগিতা করতে দেখা যায়। ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।


সম্পর্কিত নিউজ