চবিতে ছাত্রদলের নারী কর্মী মাত্র ১২ জন, ছাত্রীদের ইফতার আয়োজনে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

চবিতে ছাত্রদলের নারী কর্মী মাত্র ১২ জন, ছাত্রীদের ইফতার আয়োজনে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রদলের নারী কর্মী মাত্র ১২ জন থাকায় ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে এ আয়োজন করা হয়। ইফতার বিতরণে বিলম্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রী ইফতার না নিয়েই ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ইফতারের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও  অনেক ছাত্রী পানীয় বা খাবার হাতে পাননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রদলের আমন্ত্রণে তারা হলে এসেছিলেন, কিন্তু রোজা ভাঙার দুই মিনিট আগে পর্যন্ত পানিও পাননি। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য উপস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজন করা উচিত ছিল। অনেক ছাত্রী শেষ পর্যন্ত বাইরে দোকান থেকে ইফতার কিনে রোজা ভাঙেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। শাহিনা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, ইফতারি দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট এক নেত্রী জিরো পয়েন্টে ইফতার নিয়ে অবস্থান করছিলেন, আর রোজাদাররা শামসুন্নাহার হলে অপেক্ষা করছিলেন। আলিয়া ফারহানা নামের আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি ইফতার পাননি; আয়োজনটি ইফতারের চেয়ে ফটোসেশনে বেশি মনোযোগী ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেন।

সমালোচনার পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতারা। ভুল স্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক শ্রুতি রাজ চৌধুরী লিখেন জানান, এক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার চেয়ে বেশি ছাত্রী উপস্থিত হন। সংগঠনে মাত্র ১২ জন নারী কর্মী থাকায় এবং কিছু শিক্ষার্থীর অনুরোধে কোনো পুরুষ কর্মীকে যুক্ত না করায় ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। এ জন্য অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুজহাত জাহান এক পোস্টে বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে দ্বিগুণ উপস্থিতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। প্রথমবারের মতো নারী নেত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা ছিল উল্লেখ করে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সুশৃঙ্খল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।

সংগঠনটির সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রত্যাশার তুলনায় অধিক উপস্থিতির কারণে কেউ ইফতার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকলে সংগঠন আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিত ও সমন্বিত আয়োজনের আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ মার্চ ছাত্রীদের জন্য পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির, যা সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ায়। সর্বশেষ এ ঘটনায় চবি ক্যাম্পাসে সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ