ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা

ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা

কর্মচারী কর্তৃক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা যায় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে অন্য বিভাগে বদলির জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকারী ফজলু আগে সমাজ কল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিল। পরবর্তীতে তার কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করে। এর আগে তাকে তিন-চারবার সুযোগ দেওয়া হয় কিন্তু তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় অবশেষে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয়।

এ ঘটনায় ফজলুর রহমান তার এ বদলি মেনে নিতে না পেরে বিভাগের সভাপতিকে অনুরোধ করে তার বিভাগে আবার ফিরে আনার কিন্তু সভাপতি (মৃত শিক্ষিকা) রাজি হয়নি। ফলে এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সে বিভাগীয় সভাপতিকে হত্যা করেছে বলে প্রথামিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে খুনী ফজলু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে বলে জানা গেছে।

হত্যার বিষয়ে বর্ণনা করতে গিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, আমি নিচে ছিলাম তখন তিন-চারবার ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ শব্দ শুনতে পাই। পাশে কয়েকজন ছাত্র ছিল। তাদের সাথে উপরে কী অবস্থা দেখার জন্য গেলাম। পৌঁছে দেখি দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার দরজা খুলতে বলা সত্বেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় একজন চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছিদ্র দিয়ে রুমের অবস্থা দেখে বললো ভিতরে খুন হয়েছে। পরে ৬ জন মিলে দরজা ভেঙে দেখি ম্যাডাম নিচে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। আর হত্যাকারী নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ঐ কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ তথ্য মতে, মতৃ শিক্ষিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং খুনী কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। 


সম্পর্কিত নিউজ