{{ news.section.title }}
চবিতে অনির্বাচিত ডিনদের নিয়ে ডিন ক্যাটাগরির সিন্ডিকেট নির্বাচন
ডিন নির্বাচন না দিয়েই উপাচার্য মনোনীত অনির্বাচিত ডিনদের নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ডিন ক্যাটাগরির সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে শিক্ষক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ একে অনৈতিক ও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থী বলেও অভিযোগ তুলেছেন।
গত বুধবার (৪ মার্চ) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ করা হয়।
তফসিল অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এর ২৫(১)(বি) ধারা অনুসারে ডিন ক্যাটাগরিতে সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৮ মার্চ এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে ১২ মার্চ। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই হবে ১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ৬ এপ্রিল। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ এপ্রিল।
তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এর ৩০(৬) ধারা অনুযায়ী প্রতিটি অনুষদের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট অনুষদের অধীন বিভাগসমূহের সকল শিক্ষকের ভোটে একজন ডিন নির্বাচিত হওয়ার কথা। নির্বাচিত ডিনের মেয়াদ দুই বছর।
অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী আগে ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে চবি প্রশাসন ডিন নির্বাচন না দিয়েই উপাচার্য মনোনীত ডিনদের মাধ্যমে অনুষদগুলো পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই অনির্বাচিত ডিনদের নিয়েই ডিন ক্যাটাগরির সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্ট্যাটিউট-১৮ অনুযায়ী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন ডিন নিয়োগ দেন। ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ডিন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে ডিন নির্বাচন না দিয়েই মনোনীত ডিনদের নিয়ে সিন্ডিকেটের ডিন ক্যাটাগরির সদস্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগকে ঘিরে শিক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩০(৬) ধারা লঙ্ঘিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চবির একজন বয়োজ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, “এটা অনিয়ম। উপাচার্যের উচিত ছিল আগে ডিন নির্বাচন দেওয়া। এরপর সেই নির্বাচিত ডিনদের মধ্য থেকে সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন করা। কিন্তু তিনি ‘৭৩-এর আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনির্বাচিত ডিনদের দিয়েই সিন্ডিকেট নির্বাচন করছেন। তারা নিজেরাই অনির্বাচিত, তারা আবার কীভাবে নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য হবেন?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, “প্রথমে ডিন নির্বাচন দিয়ে পরে নির্বাচিত ডিনদের মধ্য থেকে ডিন ক্যাটাগরির সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তা করেনি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, “আমি এখন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। আপনি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেন।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জামিনুর রহমানের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনিও উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
পরে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আগে ডিন নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচিত ডিনদের মধ্য থেকে পরে সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে যারা ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারা উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত। ফলে তারা সরাসরি শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।”
সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনের আগে ডিন নির্বাচন দেওয়া সম্ভব ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উপাচার্য চাইলে আগে ডিন নির্বাচন করে পরে নির্বাচিত ডিনদের মধ্য থেকেই সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন দিতে পারতেন।”
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন ক্যাটাগরিতে একজন সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি প্রভোস্ট ক্যাটাগরিতেও একজন সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১২ এপ্রিল প্রভোস্ট ক্যাটাগরির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা ৪ মার্চ প্রকাশিত হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে ১০ মার্চ। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই হবে ৩০ মার্চ এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২ এপ্রিল।