{{ news.section.title }}
ঢাবির এ এফ রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিবের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ কার্ড ও সীড প্যাকেট বিতরণ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড ও সীড প্যাকেট (বীজ) বিতরণ করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আহসান হাবিবের উদ্যোগে স্যার এ এফ রহমান হল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা হলের বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কক্ষে কক্ষে ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড ও বীজের প্যাকেট বিতরণ করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে এসব উপহার পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়, অন্যদিকে তাদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির বার্তাও দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তা আহসান হাবিব বলেন, ঈদের আনন্দকে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার একটি ইতিবাচক বার্তা যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে তরুণদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই চিন্তা থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে সীড প্যাকেট বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগ বিএনপি ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা মনে করি। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চাই। ঈদের আনন্দের সঙ্গে মানবিকতা ও পরিবেশ সচেতনতার এই সম্মিলিত ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এই উদ্যোগটি হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, বর্তমানে ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় বেশি প্রচলিত হলেও ঈদ কার্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই ঈদ কার্ড বিতরণের মাধ্যমে পুরোনো সেই আবেগঘন সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এই আয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদকও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সন্ধ্যার পরে হলে বসে থাকার সময় হল ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী এসে তাকে ঈদ কার্ড দিয়ে যান, যা তার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ছোটবেলার ঈদ উদযাপনে ঈদ কার্ড ছিল আবেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ - রাত জেগে হাতে বানানো কার্ড, দোকান থেকে কেনা কার্ড, বন্ধুদের সঙ্গে আদান-প্রদান এবং সেগুলো যত্ন করে জমিয়ে রাখা - এসবের মধ্যেই ছিল আন্তরিকতা ও আনন্দের আলাদা অনুভূতি।
তিনি আরও লেখেন, এখন অনলাইনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের যুগে সেই ঈদ কার্ডের প্রচলন প্রায় হারিয়ে গেছে। তাই এমন উদ্যোগ আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। তার মতে, দলবেঁধে চাঁদ দেখা, ঈদের মিছিল কিংবা ঈদ কার্ড - এসবই আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মতে, উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যুক্ত করা সময়োপযোগী ও ইতিবাচক একটি উদ্যোগ। এতে একদিকে যেমন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়েছে, অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে গাছ লাগানো ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।