{{ news.section.title }}
চবিতে শিক্ষার্থীদের ঈদ ভোজ: উদ্যোগ কার-ছাত্রদল নাকি চাকসুর?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ঈদ আনন্দ ভোজ’-এর আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই আয়োজনকে ঘিরে ছাত্রদল ও চাকসুর পক্ষ থেকে পৃথকভাবে দেওয়া পোস্ট এবং পরবর্তী বক্তব্যে কাদের উদ্যোগে এ আয়োজন এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রায় একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথকভাবে ছাত্রদল ও চাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ ভোজের আয়োজন করা হয় মর্মে তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে, এ ভোজের জন্য টোকেন সংগ্রহের সময় ও স্থান একই দেখা যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরবর্তী ছাত্রদলের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল অফিস থেকে টোকেন সংগ্রহ করবে। অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য সোহরাওয়ার্দী হল গেস্ট রুম এবং ছাত্রীদের জন্য বিজয় ২৪ হল গেস্ট রুম নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের টোকেন সংগ্রহের সময় ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
অন্যদিকে একই সময়ে চাকসু ভিপির পক্ষ থেকেও একটি পোস্টে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ‘ঈদ আনন্দ ভোজ’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে একই ভেন্যু, সময় এবং টোকেন সংগ্রহের নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের বক্তব্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান খবরের কাগজকে বলেন, “নতুন ভিসি দায়িত্বগ্রহণের পরে সংবর্ধনা দিতে গিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য এ আয়োজনের প্রস্তাব জানায় এবং তাৎক্ষনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। দুইদিন পরেই চাকসু আগ বাড়িয়ে যদি ক্রেডিট নিতে যায়। ছাত্রদল কিছু করবে ক্রেডিট নিবে চাকসু এটা কেন? ক্রেডিট বাজির রাজনীতিতে ছাত্রদল বিশ্বাস করে না।”
অন্যদিকে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব খবরের কাগজকে বলেন, “প্রশাসন কোন অনুষ্ঠান আয়োজনে কোন রাজনৈতিক দলকে টাকা দিবে না।বরং প্রশাসন তার নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছে তাদেরই টাকা দিবে। যেকোনো একটি অনুষ্ঠানে আয়োজনে সকলেরই প্রস্তাবনা থাকে। একই রকমের চিন্তা ছাত্রশিবির ছাত্রদল কিংবা চাকসু করতেই পারে। কারণ তারা সকলেই ছাত্রদের নিয়েই কাজ করে।”
আবার এদিকে এ বিষয়ে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত চাকসু এজিএস আব্দুল্লাহ আল তৌফিক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “চবিয়ান ভাইবোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। ঈদের শুভেচ্ছা নিবেন। এবারের ঈদে যে সকল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপন করবেন, তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোজের আয়োজন থাকবে। চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরে উক্ত ভোজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঈদ আয়োজন সম্পন্ন হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "চবি প্রশাসনের অর্থায়নে ও চাকসুর সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিজ নিজ হল থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীকে টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হল ও বিজয়-২৪ হল থেকে টোকেন সংগ্রহ করবে।
সকলের ঈদ ভালো কাটুক। ঈদ মোবারক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান খবরের কাগজকে বলেন,
“চাকসু ও ছাত্রদল উভয় পক্ষই খুশি থাকুক, সেটিই আমরা চাই। শিক্ষার্থীদের আনন্দের কথা বিবেচনায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ আয়োজন করেছে। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে যাক।”