জবিতে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জবিতে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ছবির ক্যাপশান, জবিতে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) গণিত বিভাগের শিক্ষক আবু হানিফকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে শুরু করে শান্ত চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৭ মার্চ আমাদের বিভাগের শিক্ষক আবু হানিফ স্যারকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কর্তৃক লাঞ্ছিত করা হয়। তিনি উপাচার্য বরাবর আবেদন করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আপনারা অতি দ্রুত এর বিচার করুন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন। ক্যাম্পাসে অছাত্রদের নেতৃত্ব নির্মূল করে দিন।

এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত ফয়সাল বলেন, যে প্রশাসন শিক্ষককে নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা কীভাবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেবে? আজ থেকে দুই-তিন বছর আগে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমার ক্যাম্পাস জীবন এখানেই কেটেছে। জুলাই বিপ্লবের পরও কেন আমাদের এখানে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হবে, তা আমরা জানতে চাই। কেন আজ আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াব? আমরা আজ আমাদের প্রশাসনের ওপর ভরসা রাখতে পারছি না। আপনাদের অধিকার আজ আপনাদেরই আদায় করে নিতে হবে। আগের দমন-পীড়নের রাজনীতি যদি এখনো চলে, তাহলে আমাদের ফোন আবারও চেক করা হবে— আমরা তা চাই না।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিউল ইসলাম সৈকত বলেন, আজ বিবেকের তাড়নায়, নৈতিকতার পক্ষে আমরা দাঁড়িয়েছি। যে শিক্ষক আমাদের সত্যের পথ দেখান, সেই শিক্ষক আজ লাঞ্ছিত। আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই, হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এর আগে, গত ১৭ মার্চ গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার নতুন উপাচার্যের যোগদান উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় চা পান শেষে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার আহম্মদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নঈম আকতার সিদ্দিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর এলাকায় পৌঁছালে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় হিমেল তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, তিনি এলাকায় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গুপ্ত’ হিসেবে কাজ করছেন।


সম্পর্কিত নিউজ