'ফেলোশিপ পেয়েছেন' একটি ফোনেই চবি শিক্ষার্থী খোয়ালেন ২৫ হাজার টাকা

'ফেলোশিপ পেয়েছেন' একটি ফোনেই চবি শিক্ষার্থী খোয়ালেন ২৫ হাজার টাকা
ছবির ক্যাপশান, 'ফেলোশিপ পেয়েছেন' একটি ফোনেই চবি শিক্ষার্থী খোয়ালেন ২৫ হাজার টাকা

“আপনি ফেলোশিপ পেয়েছেন” এই সুখবর দিয়েই শুরু। তারপর ধাপে ধাপে তথ্য যাচাই, শেষে ব্যাংক ডিটেইলস আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই উধাও ২৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের ঘিরে ঠিক এমনই একটি পরিকল্পিত ফোন প্রতারণার ঘটনা একাধিকবার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরমধ্যে একজন ভুক্তভোগীর নাম মোহাম্মদ মহসিন, যিনি চবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তার বড় ভাইয়ের কাছে একটি ফোনকল আসে (নম্বর)। কলদাতা নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, মহসিন মাস্টার্সে ফেলোশিপ পেয়েছে।

এরপর শুরু হয় ‘ভেরিফিকেশন’। মহসিনের নাম, আইডি, বিএসসি ও মাস্টার্স সেশন, সিজিপিএ, পাসের সাল, ঠিকানা ইত্যাদি সব তথ্য একে একে মিলে যায়। শেষে বলা হয়, শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাকি স্থগিত, তাই অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে হবে, এ জন্য প্রয়োজন কার্ডের তথ্য।

বিশ্বাসের জায়গাটুকু তৈরি হতেই ঘটে যায় সর্বনাশ। মহসিনের ভাইয়ের ভিসা কার্ডের তথ্য নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ হাজার টাকা ট্রান্সফার হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মহসিন বলেন  টাকা হারানো নিয়ে শোক আমার মধ্যে আছে, এটা নিয়ে আজ সারাদিন আপসেট ছিলাম আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষ্য করা যায়, প্রতিবছর রেজাল্ট প্রকাশের পর এ ধরনের স্ক্যামগুলো শুরু হয়। এই ঘটনা শুধু আমার সঙ্গে নয়, আরও অনেকের সঙ্গেও ঘটেছে। আমাদের পরিবার জানে OTP কিংবা কার্ডের তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না, কিন্তু কার্ডের তথ্য শেয়ার করলে যেভাবে টাকা চলে যায়, সেটা সবাই জানে না। প্রশাসনের উচিত, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা। আমি শুরুতে মামলা করার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু মামলা করা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে আমার সময় নেই, কারণ আমি বিদেশে মাস্টার্স শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ঘটনাটি জানার পর মহসিন প্রথমে নিজের ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে বিষয়টি শেয়ার করেন। সেখানেই বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। একই দিনে, প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে আরও অন্তত দুজন শিক্ষার্থী একই ধরনের কল পেয়েছেন।
তারা হলেন  ঐ একই বিভাগের আরো দুই শিক্ষার্থী মির্জা ইনতিসার আনান ও কৌশিক আহমেদ। এছাড়া গত শুক্রবার ফোন দেওয়া হয় পরিসংখ্যান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আফনান নোহাকে তিনি লেখেন "+880 9638447758 আমাকেও এই নাম্বার থেকে গত পরশু কল দিয়ে একাউন্ট নাম্বার চেয়েছিলো এদের বিরুদ্ধে আসলেই একশন নেওয়া উচিত।"

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে তিনি জানতে পান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীকে ফোন করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন ইতোমধ্যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, প্রতারকরা এমন সব একাডেমিক ও ব্যক্তিগত তথ্য জানাচ্ছে, যা সাধারণত বাইরে থাকার কথা নয়। ফলে কলটি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় এবং অনেকেই ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন। এতে করে তথ্য ফাঁসের বিষয়টিও সামনে আসছে বলে মনে করছেন তারা।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে নিজেদের পরিবারকে সতর্ক করেছেন, অচেনা নম্বর থেকে এমন কোনো কল এলে যেন কোনো তথ্য বা ব্যাংক ডিটেইলস না দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান জাগরণকে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা প্রদান করবেন তিনি।


সম্পর্কিত নিউজ