শিক্ষিকা ​হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তসহ ৩ দফা দাবিতে ইবি শিক্ষকদের শোক ও মৌন মিছিল

শিক্ষিকা ​হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তসহ ৩ দফা দাবিতে ইবি শিক্ষকদের শোক ও মৌন মিছিল
ছবির ক্যাপশান, শিক্ষিকা ​হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তসহ ৩ দফা দাবিতে ইবি শিক্ষকদের শোক ও মৌন মিছিল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা'র নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে শোক ও মৌন মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিল বের হয়। মিছিলে শিক্ষকদের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে অংশগ্রহণ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

প্ল্যাকার্ডে “বিচারহীনতা চর্চা বন্ধ করো; নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, প্রভাবমুক্ত বিচার চাই; আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই; হত্যার বিচার না হলে নিরাপত্তা কোথায়; শিক্ষাকের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; সাজিদ হত্যার বিচার চাই; নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করো” সহ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত সংক্রান্ত বিভিন্ন উক্তি দেখতে পাওয়া যায়।  

মৌন মিছিল শেষে পুনরায় থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমবেত হয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদী সমাবেশ করে তারা।

সমাবেশে ৩ টি দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষকের। তাদের দাবি সমূহ হলো:
১. হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
২. অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
৩. শিক্ষাক-শিক্ষার্থীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এ সময় আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুজাহিদুর রহমান বলেন, সাদিয়া রুনার অফিসে কী ঘটতো, তার আপডেট তার হাজবেন্ডের কাছে ছিল। তার প্রেক্ষিতেই কিন্তু মামলাটা হয়েছে এবং আমরা এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যেটা দেখি, যে আসমা সাদিয়া রুনা জীবদ্দশাতেই সেটা তিনি শঙ্কা করেছিলেন। সেই জন্যই ওই ছেলেটাকে (শিক্ষিকার খুনি) ট্রান্সফারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

এইটা এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বাস্তব চিত্র, এটা তুলে ধরছে। বিশেষ করে আমাদের ডিপার্টমেন্টগুলোতে কোনো আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নাই। একজন চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট , নামমাত্র হিসাব দিয়ে চলে যান; এটার কোনো অডিট হয় না, এটার কোনো জবাবদিহিতা হয় না।

তিনি (শিক্ষিকা রুনা)  যখন নৈতিকতার প্রশ্নে, আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে এটাকে একটা জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে চাইলেন, তখনই উনার উপরে এই বর্বরচিত এই যে ঘটনা ঘটলো, উনাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে কিন্তু উনি আগেই জানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি এটাকে আরও গুরুত্ব সহকারে আগেই যদি ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে হয়তো তার জীবনটা রক্ষা পেত।

তিনি বলেন, আমরা দাবি জানাই যে এই ঘটনার পরে, এখন যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই ডিপার্টমেন্টগুলোকে, আমাদের অনুষদগুলোকে, এবং আমাদের প্রভোস্টের অফিসগুলোকে আর্থিক স্বচ্ছতার, জবাবদিহিতার মুখোমুখি নিয়ে আসেন। এইসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।


বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডাররা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নানা ধরনের শিক্ষক এবং অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আছেন; তাদের কাছ থেকে আমরা আরো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আসলে আশা করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাত্র হত্যা হয়েছে সেগুলো আমরা দেখেছি, কর্মকর্তা কর্মচারীও যদি হন, আমরা মনে করি প্রত্যেকেরই উচিত তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রাখা, অন্যায়কে অন্যায়ই বলা। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার যে সংস্কৃতি আমরা গড়ে তুলতে পারিনি, এটাই হচ্ছে তার প্রতিফল। আমাদের আজকের এই কর্মসূচির ফলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই ইনসাফ নিশ্চিত করবেন বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, ন্যূনতম সময়টুকুর মধ্য দিয়ে, সঠিক তদন্তের মধ্য দিয়ে অপরাধী যারা থাকবেন, যিনি যেই থাকুক, তাকে যেন বাঁচানোর চেষ্টা না করা হয়। কাউকে অন্যায়ভাবে যেন ফাঁসানো না হয়, কাউকে আবার বাঁচানোর চেষ্টাও না করা হয়। সঠিক তদন্তের মধ্য দিয়ে দ্রুততার সাথে এটার একটা সঠিক বিচার এবং এই রুনার পরিবার কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা আর্থিক একটা ন্যূনতম সহযোগিতাও পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে যে তার সাপোর্ট, সে সাপোর্টটাও আমরা অনুরোধ করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে, তার চারটে সন্তানসহ ওই পরিবারের দিকে তাদের আরো মনোযোগী হবেন তারা। এবং এ বিষয়ে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন এবং সঠিক আমরা একটা বিচার পাবো, ইনসাফ হবে এবং ভবিষ্যতে এর মধ্য দিয়েই এ জাতীয় অন্যায় এবং অবিচার এর পথ রুদ্ধ হবে।"


সম্পর্কিত নিউজ