{{ news.section.title }}
বৈসাবিতে ছুটি নেই চবিতে, স্মারকলিপির পরও ছুটি পেল না আদিবাসী শিক্ষার্থীদের
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি চলমান থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এ উপলক্ষে কোনো ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে উৎসবের সময়েও ক্লাস-পরীক্ষা চালু থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিঝু, বিষু, বৈসু, বিহু, সাংগ্রাই, চাংক্রান ও সাংক্রানসহ বিভিন্ন উৎসব উদযাপন করছেন পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠী। তবে এই সময়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কোনো ছুটি না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ছুটি ঘোষণার দাবিতে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের অন্যান্য কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈসাবি উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা ও পরীক্ষা স্থগিতের নজির থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিবছরই তারা ক্লাস-পরীক্ষা ও উৎসবের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, “ছুটি একেবারেই দেওয়া হয়নি—এমনও নয়, আবার পুরোপুরি দেওয়া হয়েছে—তাও নয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক)-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি অসুস্থতার কারণে বর্তমানে বিদেশে থাকায় বিষয়টি দেখার সুযোগ পাননি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ডিন ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সময়ের মধ্যে তাদের পরীক্ষা না রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চলতি বছরের জন্য ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে এবং ভবিষ্যতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এ ছুটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আগামী রবিবার প্রশাসনের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে।
আদিবাসী শিক্ষার্থী রিপুল চাকমা বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পার্বত্য চট্টগ্রামের নিকটবর্তী হওয়ায় এখানে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। কিন্তু বৈসাবি উপলক্ষে কোনো ছুটি রাখা হয়নি। অথচ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সময় ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরই আমরা দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয় না।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেঘলা মারমা বলেন, “বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। ছুটি না থাকায় আমরা বাড়ি যেতে পারি না, পরিবারের সঙ্গে উৎসবও উদযাপন করতে পারি না। একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এই ছুটি যুক্ত করা হলে আমাদের জন্য তা স্বস্তির হতো।”
শিক্ষার্থীরা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভবিষ্যতে বৈসাবি উৎসবের ছুটি একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।