{{ news.section.title }}
স্ত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে অভিনেতা জাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন মোড় নিয়েছে ঘটনাটি। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন ও অপমানজনক আচরণের কারণে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে তাকে। এ ঘটনায় রোববার (১ মার্চ) ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী এবং তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলীকে আসামি করা হয়েছে।
গত শনিবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএসএলাকার একটি বাসা থেকেআফরা ইবনাত ইকরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিপ্রকাশ্যে আসার পর থেকেইসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনেব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে এটিআত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে জানাগেলেও পরবর্তীতে পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়।
মামলারএজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে জাহের আলভী ও ইকরাবিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনেতাদের একটি পাঁচ বছরবয়সী সন্তান রয়েছে। শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও বিয়ের পর ধীরে ধীরেসম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগকরেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ইকরারবাবার দাবি অনুযায়ী, বিয়েরপর থেকেই অভিনেতা আলভী তার মানাসরিন সুলতানার প্রভাব ও প্ররোচনায় স্ত্রীরপ্রতি মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। বিষয়টিজানার পর পরিবারের পক্ষথেকে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তাফলপ্রসূ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক সমস্যাগুলো সমাধানের পরিবর্তে ইকরাকে অবহেলা ও অপমানের মুখেপড়তে হয়।
এজাহারেআরও বলা হয়েছে, প্রায়দুই বছর আগে ইকরাজানতে পারেন যে তার স্বামীঅন্য এক নারীর সঙ্গেসম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে দাম্পত্য জীবনে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।এরপর থেকে তাকে সংসারথেকে সরে যাওয়ার জন্যবিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করাহয় বলে অভিযোগ করাহয়েছে।
পরিবারেরভাষ্য অনুযায়ী, ইকরাকে নিয়মিত অপমান, গালিগালাজ এবং হতাশাজনক মন্তব্যকরা হতো। এসব আচরণেতিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অভিযোগেউল্লেখ আছে, তাকে এমনকথাও বলা হতো যাতেতিনি চরম মানসিক বিপর্যয়েরমধ্যে পড়েন এবং নিজেকেঅসহায় মনে করতে শুরুকরেন।
ঘটনাটিপ্রকাশ্যে আসার পর বিনোদনঅঙ্গনসহ সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়াতৈরি হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনেরবিষয়টি আবারও জনআলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরাবলছেন, মানসিক নির্যাতন অনেক সময় দৃশ্যমাননা হলেও এর প্রভাবঅত্যন্ত গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদেতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যায়প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেকঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারসুযোগ রয়েছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীরজাহান জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবংঅভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।
এই ঘটনার ফলে পারিবারিক সম্পর্কেরমধ্যে মানসিক সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্বপাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দাম্পত্যজীবনে মানসিক চাপ ও অপমানদীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাবফেলতে পারে, যা কখনো কখনোচরম সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়।
বিশ্লেষকদেরমতে, সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক বিরোধও মানসিক নির্যাতনজনিত মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায়বিষয়টি সামাজিক ও আইনি উভয়দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। বিশেষকরে জনপরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগউঠলে তা সমাজে বড়ধরনের আলোচনার জন্ম দেয় এবংসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে আসে।
আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তদন্তে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণ, পারিবারিক যোগাযোগ, সাক্ষ্য এবং মানসিক নির্যাতনেরধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলেন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে দায়ের হওয়াএই মামলা শুধু একটি পারিবারিকট্র্যাজেডিই নয়; বরং সমাজেমানসিক সহিংসতা, পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি এবং আইনি সচেতনতারপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করেপ্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্তের অগ্রগতিএবং আইনগত প্রক্রিয়ার দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।