{{ news.section.title }}
ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইন তৈরীর নিয়ম, ভুল হলেই নষ্ট হতে পারে কিডনি
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
হঠাৎ ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে অনেকে এটি থামাতে নানা ধরনের ওষুধ খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আসলে বেশির ভাগ ডায়রিয়ায় কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কেবল যে পানি ও লবণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, সেটা খাওয়ার স্যালাইন দিয়ে পূরণ করলেই চলবে। বেশির ভাগ ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়।
তবে বাজারে ডায়রিয়া বন্ধ করার কিছু ওষুধ প্রচলিত আছে। দোকানে গেলে দোকানি এগুলো ধরিয়ে দেন। অনেকে শুনে শুনে খেয়ে থাকেন। যেমন লপেরামাইড, কোডিন-জাতীয় ওষুধ। অনেকে আবার সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। ফ্লাজিল বা মেট্রোনিডাজলও খুব প্রচলিত। কিন্তু মনে রাখবেন, প্রয়োজন ছাড়া এগুলো খাওয়া ঠিক নয় হিতে বিপরীত হতে পারে।
লপেরামাইড হলো অ্যান্টিমটিলিটি ওষুধ। মানে এটি খেলে অন্ত্রের চলন কমে যায়, ফলে বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা কমে। কিন্তু এটি ডায়রিয়া সারাতে সাহায্য করে এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ খাওয়া বারণ। যেমন ১২ বছর বয়সের নিচে শিশুর যদি ডায়রিয়ার সঙ্গে জ্বর বা পেট কামড়ানো থাকে, পেট ফুলে যাওয়া বা আলসারেটিভ কোলাইটিস-জাতীয় রোগে। এ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ খেলে মাথা ঘোরা, মাথা হালকা বোধ হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে।
উল্টো দিকে সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মেট্রোনিডাজল বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন ইত্যাদি হলো অ্যান্টিবায়োটিক। আমরা জানি যে বেশির ভাগ ডায়রিয়াই হলো ভাইরাসজনিত, কখনো কখনো ফুড পয়জনিংয়ের কারণে হয়ে থাকে। এ ধরনের ডায়রিয়া এমনিতেই সারে। কোন ধরনের ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা আছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
তার মানে সাধারণ ডায়রিয়ায় কোনো ওষুধপত্র না খেয়ে বিশ্রাম নিন, বারবার খাওয়ার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করুন, বেশি করে তরল খান। এটাই যথেষ্ট। তাই ডায়রিয়া হলে ভয় না পেয়ে বাসায় খবার স্যালাইন তৈরী করে খাওয়ালে খুব সহজেই ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়।
স্যালাইন তৈরি করার নিয়ম কী, কীভাবে খেতে হবে-
ডায়রিয়া হলে এক প্যাকেট স্যালাইন আধা লিটার পানিতে গুলিয়ে খেতে হবে। আইসিডিডিআর,বি বলছে, ১০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতিবার পায়খানার পর এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) স্যালাইন খেতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে, প্রতিবার পায়খানার পর শিশুর ওজন যত কেজি তত চা-চামচ বা যতটুকু পায়খানা হয়েছে আনুমানিক সেই পরিমাণ খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে শিশু বমি করলে ধীরে ধীরে খাওয়াতে হবে। যেমন- তিন বা চার মিনিট পর পর এক চা-চামচ করে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি দুই বছরের নিচের শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ দিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই তা বন্ধ করা যাবে না।