ঢাকার পানিতে ‘বিষ’-ক্যান্সার ঝুঁকির রাসায়নিক মিলেছে গবেষণায়

ঢাকার পানিতে ‘বিষ’-ক্যান্সার ঝুঁকির রাসায়নিক মিলেছে গবেষণায়
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার পানিতে ‘বিষ’-ক্যান্সার ঝুঁকির রাসায়নিক মিলেছে গবেষণায়

রাজধানী ঢাকার সরবরাহকৃত পানিতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান পাওয়ার দাবি তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ঢাকা ওয়াসার পানিতে PFAS (polyfluoroalkyl substances), কীটনাশক এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের উপস্থিতি মিলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল সুইডেনের Umea University-এর সহযোগিতায় সুইডেনের একটি ল্যাবরেটরিতে ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন স্থানের পানির নমুনা পরীক্ষা করে এসব উপাদান শনাক্ত করেছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে কৃষি রসায়ন বিভাগের ড. আরিফ ও ড. কাইউমের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহবুব কবির মিলন জানান, একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লিটার পানি পান করেন। সেই হিসেবে প্রতিদিনই শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্ষতিকর কেমিক্যাল প্রবেশ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি তিনি সরাসরি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অবহিত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়াসার ল্যাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পানির উৎসভেদে (সারফেস ও গ্রাউন্ড ওয়াটার) পৃথকভাবে পরীক্ষা করে ঝুঁকির কারণ (রুট কজ) ও রিস্ক ফ্যাক্টর বিশ্লেষণের আহ্বান জানান।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা প্রকাশের দিন ওয়াসার ল্যাবের চারজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। এরপরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

এ বিষয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাকে আগামী সপ্তাহে আলোচনার জন্য অফিসে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নাগরিকদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।

তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে PFAS, কীটনাশক ও ওষুধজাত অবশিষ্টাংশ (pharmaceutical residues) পাওয়া গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


সম্পর্কিত নিউজ