{{ news.section.title }}
মিগ-২১ যুদ্ধবিমানকে বিদায় জানাচ্ছে যে দেশ
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
অবশেষে ছয় দশকের সেবা শেষে মিগ–২১ যুদ্ধবিমানকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আকাশে শেষবারের মতো উড়বে এই বিখ্যাত যুদ্ধবিমানটি। ১৯৬৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ভারত এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে। তখনকার ‘মিকোয়ান গুরেভিচ’ বা মিগ–২১ ছিল ভারতের প্রথম সুপারসনিক যুদ্ধবিমান, যা শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মিগ–২১ বিমান ব্যবহার করে ঢাকার গভর্নর হাউসে হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ভূপেন্দ্র কুমার বিষ্ণোই, যিনি পরে ‘থান্ডার ওভার ঢাকা’ নামে একটি বইয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন। ঐ হামলার দুই দিন পরই আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি।
মিগ–২১ দীর্ঘকাল ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, এটি বহু দুর্ঘটনার সঙ্গেও জড়িত। সরকারি হিসাবে, পাঁচ শতাধিক দুর্ঘটনায় ১৭০ জন পাইলটসহ বহু প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে ‘উইডো-মেকার’ বলেও পরিচিত ছিল বিমানটি।
এতদিন মিগ–২১-কে চালু রাখতে যান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন পরিমার্জন আনা হয়েছিল, যার সর্বশেষ সংস্করণ ছিল ‘মিগ–২১ বাইসন’। তবে এর একটি ইঞ্জিন, সীমিত পে-লোড ক্যাপাসিটি ও জ্বালানি সীমাবদ্ধতার কারণে তা আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
মিগের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করা হচ্ছে। ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে ৮৩টি তেজস সরবরাহ করবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস। যদিও ইঞ্জিনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এর প্রস্তুতি বিলম্বিত হচ্ছে।
মিগ–২১-এর অবসানকে অনেক প্রবীণ পাইলট আবেগের সঙ্গে দেখছেন। তবে বাস্তবতা হলো—একটি যুগের অবসান ঘটছে, আর ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।