চা বিক্রেতার উপর ট্রাম্পের ৫০০% শুল্ক আরোপ!

চা বিক্রেতার উপর ট্রাম্পের ৫০০% শুল্ক আরোপ!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ভারত কোনও চাপের মুখে মাথা নত করে সিদ্ধান্ত নেয় না।বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি ও দেশের প্রয়োজন মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। -নয়া দিল্লি। ট্রাম্পের ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ বিল ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।ট্রাম্প প্রশাসন একটি নতুন বিল প্রস্তুত করেছে। বিলটির নাম রাশিয়ান স্যাংশনস বিল।

মুলত যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ক্রয় করছে এমন দেশগুলোর জন্য এই বিলটি বানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যে বিলটি গ্রহণ হয়েছে , চুড়ান্ত অনুমোদন যেন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে ভারতের অর্থনীতি ,জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোতে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যেখানে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপিত হওয়ার পরেই ভারেতের অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা সেখানে ৫০০ শতাংশ যেনো মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা! ৮৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি মুখীতে আঘাতা লাগার পরে পরেই দেশের শেয়ার বাজারে বড় রকমের প্রভাব পড়েছে।ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে রুপির মুল্য। 

ফরেক্স ব্যবসায়ীদের মতে, ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক তহবিল প্রত্যাহার ও ডলারের বাড়তি চাহিদাই রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। গত তিন সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। সিআর ফরেক্স অ্যাডভাইজর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত পাবাড়ি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যাপক বহিঃপ্রবাহ শুধু রুপিকে চাপে ফেলছে না, বরং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

চলমান অর্থনৈতিক এই দ্বন্ধ নিয়ে অজয় শ্রীবাস্তব বলছেন, "এখন পর্যন্ত ট্রাম্প নিজের ক্ষমতায় ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করেছেন। কিন্তু এই বিলটি কংগ্রেসে পাস হতে হবে। আমার মনে হয় না এই বিল পাস হবে। তবে ভারতের উচিত নিজের নীতি পরিষ্কার করা।" তিনি আরো বলেন , "ভারত যদি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে চায়, তাহলে তা খোলাখুলি বলা উচিত। আর যদি না কিনতে চায়, সেটাও বলা উচিত। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর পাশাপাশি মার্কিন শুল্কের ক্ষতি সহ্য করা অসম্ভব।"

গত বছরের আগস্ট মাসে ট্রাম্পের হুমকির পরেই রাশিয়ান তেল আমদানিতে লাগাম দেন ভারত।রাশিয়া থেকে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ক্রয় করা প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে তারা জানুয়ারী মাসে রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। ভারতের তেল কেনার বিষয়ে মন্তব্য করেছে রয়টার্স। রয়টার্স জানিয়েছে, এই মাসে ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানিকে বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। একই বিষয়ে ব্লুমবার্গও মন্তব্য করেছে।তাদের মতে , গত জুন মাস থেকে প্রতিদিন দুই দশমিক এক মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির সর্বোচ্চ স্তর থেকে ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ৪০ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে "২০২৪ সালে ভারত আমেরিকায় ৮৭.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ"। খোদ আমেরিকা নিজেই রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখেছে।তারা রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম ক্রয় করছে।অপরদিকে রাশিয়া থেকে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ তেল ক্রয় করলে সেটার উপর আমেরিকার ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপকে অর্থনৈতিবীদরা একপ্রকার আক্রোশ হিসেবে দেখছেন।

ভারত দ্রুতবর্ধনশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হলেও ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, মন্দা, বেকারত্ব, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি (যেমন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক) থেকে বড় ধরনের হুমকির মুখে, যা কৃষি ও শিল্প খাতকে প্রভাবিত করছে, রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে এবং প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাচ্ছে। চা বিক্রির জায়গা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ অতঃপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হতে পারে এই ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ।ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল , বিরোধীদল থেকে শুরু করে খোদ নিজ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও মোদীর বাণিজ্যিনীতির উপর নাখোশ।এই নাখোশ জারী থাকলে আগামী নির্বাচনে মোদীর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

সম্পর্কিত নিউজ