উত্তেজনার মধ্যে ইরানের উপকুলে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যে ইরানের উপকুলে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ইরানের ওপর আরো নিবিড় নজরদারি চালানোর লক্ষ্যে দেশটিতে যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সুইজারল্যান্ডের দাভোসের শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো জানান যে, একটি 'আর্মাদা' বা যুদ্ধজাহাজের বড় বহর ইরানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে নয়, বরং প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং নজরদারির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে উত্তেজনার মধ্যে ইরানে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র। 


মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই বহরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কিছু গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ রয়েছে যা সহজেই ইরানের উপকুলে থাকা যুদ্ধজাহাজ গুলো ধ্বংস করে দিতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বহরটি ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান নিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে গত সপ্তাহে এই যাত্রা শুরু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।


মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে এই বহরে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া এই বহরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক মজুদ রয়েছে।


২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। গত বছরের জুনের সংঘাত এবং ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সর্বশেষ এই যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা। ইরানের পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হলেও ট্রাম্প যেন আবারো অশান্ত করার চেষ্টা করছে। 


সম্পর্কিত নিউজ