মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আকাশপথে বাধা সৌদির,যুদ্ধে ইরানের পাশে থাকার আশ্বাস

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আকাশপথে  বাধা সৌদির,যুদ্ধে ইরানের পাশে থাকার আশ্বাস
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, MD Shafayet Ullah

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব—এমন অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই আশ্বাস দেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএর বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এতদিন দিন সৌদি -ইরান পরস্পর বিরোধী সমপর্ক থাকলে ইরানের বিপদের সময়ে এবার সৌদি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।ফোনালাপে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে যেকোনো বিরোধ আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে রয়েছে সৌদি আরব। সৌদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই।

আলোচনা শেষে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, মুসলিম দেশগুলোর সমর্থনের জন্য তেহরান কৃতজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতা কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পরিচালিত মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অপতৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করেন। ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত এড়াতে সহায়ক যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।


এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে। দেশটি স্পষ্ট করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি জানান, একটি মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও সেটি ব্যবহার করতে না হয়—এমনটাই তিনি প্রত্যাশা করছেন। 

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এসব যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সুরক্ষা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।চলতি মাসের শুরুতেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এর আগেও উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক শক্তি জড়ো করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির এই সময়ে সৌদি আরব ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ফোনালাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দিনদিন দুই দেশের সমপর্ক শক্তিশালী হচ্ছে। সবাই যেন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা পৌছে দিচ্ছে।  


সম্পর্কিত নিউজ