রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা কত

রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধে  বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা কত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

সব চেয়ে অবাক করার বিষয় হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশের নাগরিক মারা যাচ্ছে কিন্তু কেন। যুদ্ধটা তো আমাদের দেশের নয় তাহলে আমাদের দেশের নাগরিক মারা যাচ্ছে কেন? কেউ নিজের ইচ্ছায় এবার কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হয়ে অনেক বাংলাদেশি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে বলে জানা যায়।

ঠিক কতজন বাংলাদেশি বর্তমানে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব কারও কাছে নেই। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এরইমধ্যে মারা গেছেন, আবার অনেকের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমান উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে তাকে যেতে হয় রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে। 

সেখানে গিয়ে তিনি সৈন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন, রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিনামায় তাকে ‘বিক্রি’ করে দেয়া হয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এই পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশি মারা গেছে তাঁর সঠিক তথ্য না থাকলেও তদন্ত সংস্থার ধারণা: ৩০ জনের বেশি বাংলাদেশি নিহত হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে কমপক্ষে প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।নিহত বাংলাদেশিদের প্রকাশিত নাম জানা যায় তারা হলেন,

ইয়াসিন শেখ – ময়মনসিংহের যুবক, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত। 
নজরুল ইসলাম – রাজবাড়ীর সাবেক সেনা সদস্য, যুদ্ধে গিয়ে নিহত; ৭ মাস পর পরিবার খবর পায়। 
হুমায়ুন কবির – নাটোরের বাসিন্দা, চাকরির কথা বলে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে মারা যান। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আকরাম হোসেন রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন।এছারাও আরো অনেকে মারা যায়। 

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভালো বেতন ও নিরাপদ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তারা মনে করেন বৈধভাবে কাজ করতে যাচ্ছেন, কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর জোর করে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। যা খুবই অমানবিক। ভোক্তভোগিরা সরকারে নিকট জোরালো দাবী জানাই তাদের দেশে আনার জন্য। 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরীফুল হাসান বলেন, একই গ্রামের একাধিক বাংলাদেশি রাশিয়ায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছেন। বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে কাজের কথা বলে তাদের নেয়া হলেও সেখানে গিয়ে তারা প্রতিশ্রুত কাজ পাননি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা ফেলো জাহান শোয়েব বলেন, যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর পর তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া চুক্তিপত্রগুলো সম্পূর্ণ রুশ ভাষায় থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না, আসলে সেখানে কী লেখা আছে।

তবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যারা ফিরেছেন তাদের বাইরে আরও কত বাংলাদেশি রুশ ফ্রন্টলাইনে আছেন, তার সঠিক হিসাব নেই। গত ডিসেম্বরে সময় টেলিভিশনের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে একটি কক্ষে অন্তত ২৮ জনকে দেখা যায়, যারা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন।

বিআইআইএসএসের রিসার্চ ফেলো জাহান শোয়েব বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই তৎপরতা বন্ধ না হলে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরীফুল হাসান বলেন, রাশিয়ান দূতাবাস বা বাংলাদেশে রাশিয়ার মিশনের সহযোগিতা ছাড়া ঠিক কতজন যুদ্ধে আছে, তারা কোথায় আছে-এসব শনাক্ত করা খুব কঠিন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়া ও আফ্রিকার আরও অনেক দেশ থেকেই প্রতারক চক্র এভাবে সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গুলো এই বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাই। 
 


সম্পর্কিত নিউজ