তুরস্ক ও গ্রিসের উপকূলে শরণার্থীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু

তুরস্ক ও গ্রিসের উপকূলে শরণার্থীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Sourav Debnath

তুরস্ক এবং গ্রিসের উপকূলে শরণার্থীবাহী দুটি নৌকার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নৌকায় ছিলেন প্রায় ৬০ জনেরও বেশি আরোহী। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঘটনায় অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কানাক্কালের উপকূলে একটি নৌকা থেকে জরুরি কল পাওয়া যায়। টহলদার নৌকা এবং হেলিকপ্টার পাঠানোর পর উদ্ধারকারীরা ২৫ জনকে বাঁচিয়েছেন, যদিও এই অভিযানে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে, গ্রিসের কোস্টগার্ড তাদের টহল নৌকা দিয়ে একটি ছোট ডিঙ্গি উদ্ধার করে। এই ডিঙ্গিতে ছিলেন প্রায় ৩১ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে ২৩ জনকে বাঁচানো হয়েছে। বাকি সাতজনের — তিনজন নারী, দুইজন ছেলে, এক মেয়ে এবং একজন পুরুষ — মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একজন অল্পবয়সী মেয়ের সন্ধান চলছে, যিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন ২০ বছর বয়সী পুরুষকে মানব পাচারকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য যাত্রীরা তাকে ডিঙ্গি চালক হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে গ্রীক কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

তুরস্কের উপকূল এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জ লেসবোস, সামোস ও রোডসের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এই রুটটি মূলত সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের পথ হিসেবে কাজ করে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছর প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ এই রুট ব্যবহার করে গ্রিসে প্রবেশ করেছেন। এছাড়াও তুরস্কের সাথে গ্রিসের ছোট স্থল সীমান্ত অতিক্রম করেছেন প্রায় ৭,৭০০ জন।

তবে এই বিপজ্জনক পারাপারে মোট ১২৫ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। গ্রীক সরকার সমুদ্রে টহল বৃদ্ধির মাধ্যমে চোরাচালানকারী চক্রের কার্যক্রম আরও দক্ষিণের দিকে স্থানান্তরিত করেছে। এখন আফ্রিকার উত্তর উপকূল থেকে দক্ষিণ গ্রীসে অবৈধভাবে মানুষ পরিবহনের জন্য বৃহত্তর নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

তুরস্কের উদ্ধারকৃত যাত্রীদের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অভিযানে তুর্কি এবং গ্রীক কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে কাজ করেছেন। তবে উভয় দেশের কর্মকর্তারা অন্য দেশের উদ্ধার প্রচেষ্টা সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না।

এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে আবারও শরণার্থী সংকটের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া এই সংকটের সমাধান খুব কঠিন হবে।


সম্পর্কিত নিউজ