{{ news.section.title }}
দেড় মাসে দেড় লাখ আফগান শরণার্থী ফেরত পাঠিয়েছে পাকিস্তান ও ইরান
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
২০২৬ সালের শুরু থেকে মাত্র দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েতবাহিনী আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালানোর সময় লাখ লাখআফগান নিরাপত্তার খাতিরে পাকিস্তান ও ইরানের বিভিন্নশরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত বাহিনীচলে যাওয়ার পরও ওই শিবিরেবহু আফগান থাকেন এবং নতুন জীবনগড়ে তোলেন।
কিন্তু২০২১ সালে আফগানিস্তানে কট্টরইসলামপন্থি গোষ্ঠীর ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানও ইরানে নিরাপত্তাজনিত এবং অর্থনৈতিক চাপবেড়ে যায়। বিশেষ করেপশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি দারুণ সংকটে পড়ার ফলে, ২০২৩সালের শেষের দিকে উভয় দেশেরসরকার আফগান শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরতপাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এরপরথেকে পাকিস্তান ও ইরান থেকেদফায় দফায় আফগানদের দেশেফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এইপ্রক্রিয়ায় কখনও কখনও বলপ্রয়োগও করা হয়েছে। তবেআফগানিস্তানে ফিরে তাদের নতুনসমস্যা দেখা দিয়েছে। চারদশক দেশের বাইরে থাকায় অনেক আফগান তাদেরপুরনো ঠিকানা হারিয়েছেন। এছাড়া অধিকাংশের কাছে নাগরিকত্ব বাপরিচয় সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র নেই, যা দেশটিতে বেঁচে থাকার পথ আরও জটিলকরছে।
সবচেয়েবড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বেকারত্ব।তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে কর্মসংস্থানের অভাবে আফগানরা ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ, ফেরত আসা শরণার্থীদের৯০ শতাংশ পরিবারের দৈনিক খরচ মাত্র ৫ডলারের কাছাকাছি। এ সীমিত অর্থেরমধ্যে খাবার, পোশাক ও ওষুধের প্রয়োজনমেটাতে হচ্ছে তাদের।
ইউএনএইচসিআরেরমতে, “আমরা ফেরত আসাআফগানদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিকজরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় তারা অপেক্ষা করছেন।অবস্থা স্থিতিশীল হলে পূর্ববর্তী ঠিকানায়ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।”
এই হিসেবে পাকিস্তান ও ইরানের ফেরতনীতি এবং আফগানিস্তানে শরণার্থীদেরবাস্তব চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণউদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়েযাচ্ছে।