যে বার্তা দিল ইরানের অন্তর্বর্তী সর্বোচ্চ নেতা

যে বার্তা দিল ইরানের অন্তর্বর্তী সর্বোচ্চ নেতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে রোববার (১ মার্চ) থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত  রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ফকিহ সদস্য অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।গার্ডিয়ান কাউন্সিল হলো ১২ সদস্যের একটি পরিষদ, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ব্যাপক ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার করে থাকে।  গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এর সদস্য ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই। ইরনা জানিয়েছে, গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই তার প্রথম বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মুসলিম জাতির কোলে বড় হওয়া মহান মুজাহিদিনদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে হামলার মাধ্যমে কখনোই ব্যাহত করতে পারবে না।’ তিনি আরো বলেন "আমেরিকান সরকার বিশ্বে সবচেয়ে ঘৃণিত, ইরানের মহান জাতি তার বীর নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেবে"।

ইরানের সংবিধানের ১১১ ধারা অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে ইরানের বর্তমানে জীবিত সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকতা আলি লারিজানি বলেন, যুদ্ধের সময় জনগণ যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, সে জন্য তাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূখণ্ডে যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো রয়েছে, সেগুলো সেই দেশগুলোর অংশ নয়; সেগুলো আমেরিকার ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত। আমরা ঐ দেশগুলোকে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা রাখি না।

ব্রিগ্যাডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি আইআরজিসি (IRGC)-এর নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।১ মার্চ ২০২৬-এর সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় পূর্ববর্তী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর আহমদ ওয়াহিদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। 

ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনীয়ীর শাহাদাতে শোক প্রকাশ করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ঘটনা ইরানি জাতিকে তাঁর পথ অনুসরণে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করবে। ইরান রবিবার ভোরে নিশ্চিত করেছে যে, গত শনিবার অপরাধী মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইমাম খামেনীয়ী শহীদ হয়েছেন। আইআরজিসি এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, ইসলাম ও ইরানের পথে আয়াতুল্লাহ খামেনীয়ীর শাহাদাত বরণ করা মূলত একটি বিজয়ের লক্ষণ এবং লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর ইঙ্গিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই শাহাদাত ইমাম খামেনীয়ীর পথ অনুসরণে ইরানি জাতির সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। আইআরজিসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নিস্ট শাসকের এই অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী পদক্ষেপকে ধর্মীয়, নৈতিক ও আইনি নীতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ইরানি জাতির পক্ষ থেকে কঠোর, নিষ্পত্তিমূলক ও অনুশোচনা-উদ্রেককারী প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতের পর ইরানের মন্ত্রিপরিষদ ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এই জঘন্য অপরাধের জবাব দেওয়া হবে এবং এর নেপথ্যে থাকাদের তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করতে বাধ্য করা হবে। ইতিমধ্যেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েলি অধিকৃত ভূখণ্ড এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এদিকে আলী খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন তাঁর উত্তরসূরি তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্স বলছে, হামলার দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বলেছিল, যদি খামেনি অভিযানে নিহত হন, তাহলে তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বিপ্লবী গার্ডের কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্বরা।খামেনি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি ছোট রাজনৈতিক ও সামরিক মহলকে ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য নেতৃত্ব কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ছিলেন আলী আসগর হেজাজি, পার্লামেন্টের স্পিকার ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, সাবেক গার্ড প্রধান ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি, বর্তমানে কার্যকর নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।


সম্পর্কিত নিউজ