যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের সঙ্গে তিন দেশের যোগাযোগ, একটি শর্ত দিলো তেহরান

যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের সঙ্গে তিন দেশের যোগাযোগ, একটি শর্ত দিলো তেহরান
ছবির ক্যাপশান, ভ্লাদিমির পুতিন, শি জিনপিং, মাসউদ পেজেশকিয়ান ও ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিকভাবে “যুদ্ধবিরতি/ডি-এস্কেলেশন” নিয়ে কথা বলার লক্ষ্যেই এই যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিতে ইরানের প্রথম শর্ত-ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন করে তীব্র হয় ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর। ইরান দাবি করছে, ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আঘাত হানে এবং এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক হামলা চালায়-ফলে পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক উত্তেজনায় রূপ নেয়।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইরানের ‘লাল দাগ’

কাজেম ঘারিবাবাদির বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে এসেছে, তা হলো-যুদ্ধবিরতি মানেই “কাগুজে ঘোষণা” নয়; তেহরান চাইছে এমন নিশ্চয়তা, যাতে সামরিক অভিযান বা আক্রমণ আবার শুরু না হয়। ইরানের অবস্থান হলো, আগ্রাসন বন্ধের “পূর্ণ নিশ্চয়তা” ছাড়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে না।

এমন বার্তা দেওয়ার পেছনে ইরানের আরেকটি কৌশলগত লক্ষ্যও আছে-তারা বোঝাতে চাইছে, এখনকার পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিক্রিয়া “প্রতিরোধমূলক” এবং “আগ্রাসন বন্ধ হলে প্রতিক্রিয়ার তীব্রতাও কমবে।” এ ধরনের অবস্থান সাধারণত যুদ্ধবিরতির দরকষাকষিতে ‘সিকিউরিটি গ্যারান্টি’কে সামনে আনার কৌশল হিসেবে দেখা হয়।

মধ্যস্থতার সম্ভাব্য রাস্তা: একাধিক দেশ সক্রিয়

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে (ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ’র বরাত) বলা হয়, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে যোগাযোগ করেছে।
অন্যদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখা যায়-এই সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুধু বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আঞ্চলিক পর্যায়েও একাধিক দেশকে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। রয়টার্স জানায়, ইরান কাতার, সৌদি আরব ও ওমানকে অনুরোধ করেছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যুদ্ধ থামাতে চাপ দেয়। একই প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যও এসেছে-ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ না করলে ইরানের প্রতিক্রিয়া চলবে, এবং তিনি ইঙ্গিত দেন যে ওয়াশিংটনের একটি ফোনকলও পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

এই দুই ধারার কূটনীতি (একদিকে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের যোগাযোগ, অন্যদিকে কাতার-সৌদি-ওমানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রভাব তৈরির চেষ্টা) দেখাচ্ছে-তেহরান যুদ্ধ থামানোর বার্তা পুরোপুরি বন্ধ করেনি, কিন্তু শর্তের জায়গায় কঠোর।

ময়দানে কী হচ্ছে: হামলা-পাল্টা হামলা ও ‘চাপের কৌশল’

সংঘাতের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই দুই পক্ষের ‘চাপের কৌশল’ স্পষ্ট হচ্ছে। রয়টার্সের বরাতে আরএনজেড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিকে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে, অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেদ করে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে। একই প্রতিবেদনে ইরান সরকারপক্ষের বক্তব্যের সারমর্ম-ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে প্রতিক্রিয়া বন্ধ হবে না।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-যুদ্ধবিরতির জন্য ‘প্রথম শর্ত’ হিসেবে ইরান যে “আর আগ্রাসন হবে না”-এটা বলছে, বাস্তবে তারা অন্তত দুইটি নিশ্চয়তা চায়:

  • হামলা বন্ধের ঘোষণা,
  • ভবিষ্যৎ হামলা পুনরায় না করার রাজনৈতিক/কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি (বা বাস্তব নিরাপত্তা ব্যবস্থা)।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও ‘দ্রুত যুদ্ধ থামার’ আভাস

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন-ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ খুব শিগগিরই থেমে যেতে পারে। এই ধরনের বক্তব্য সাধারণত দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়:

  • একদিকে এটি কূটনৈতিক সমাধান এগোনোর ইঙ্গিত হতে পারে,
  • অন্যদিকে সামরিক চাপ বাড়িয়ে আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরির বার্তাও হতে পারে।

তবে এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নির্ভর করছে “মাঠে হামলা থামা” এবং “ইরানের শর্ত মানা/মানে এমন কাঠামো দাঁড় করানো”–এই দুইয়ের ওপর।


সম্পর্কিত নিউজ