{{ news.section.title }}
দাজ্জালের আগমনের ঘোষণা দিলেন নেতানিয়াহু!
“আমরা আবার সেই রাজত্য তৈরি করব। মসিহর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবো।” -বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েল। দীর্ঘ ৭ দিন পর জনসম্মুখে এসে বক্তব্য দিলেন যুদ্ধাপরাধী বেনজামিন নেতানিয়াহু। ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের হামলা থেকে রক্ষা পাবার জন্য গোপন বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিলেন নেতানিয়াহু। সর্বশেষ ৭ মার্চের পর আজ আবার জন্মম্মুখে এসে বক্তব্য দেন, আর সেখানেই তিনি দাজ্জালের আগমনের কথা জানান দেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কি বা কে এই দাজ্জাল?
ইসলাম ধর্মে কিয়ামতের আগে যে বড় বড় ফিতনা বা পরীক্ষাগুলো পৃথিবীতে দেখা দেবে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর একটি হলো দাজ্জালের আবির্ভাব। দাজ্জাল সম্পর্কে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। দাজ্জালকে এমন এক শক্তিশালী ও প্রতারক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে মানুষের ঈমান পরীক্ষা করবে এবং অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দাজ্জালের পূর্ণ নাম হলো আল মাসিহা আদ দাজ্জাল। “দাজ্জাল” শব্দের অর্থ হলো প্রতারক বা মিথ্যাবাদী। তাকে “মিথ্যা মসিহ” বলা হয়, কারণ সে নিজেকে ঈশ্বর বা মসিহ দাবি করবে এবং মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে দাজ্জাল হবে একচোখা এবং তার কপালে “কাফির” শব্দ লেখা থাকবে, যা প্রকৃত ঈমানদাররা বুঝতে পারবে। সে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াবে এবং মানুষের সামনে নানা অলৌকিক শক্তির মতো কিছু বিষয় দেখিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করবে। অনেক মানুষ তার কথায় বিশ্বাস করবে, আবার অনেক ঈমানদার মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দাজ্জালের ফিতনা পৃথিবীতে কিছু সময় স্থায়ী হবে। পরে মহান আল্লাহর নির্দেশে নবী হযরত ঈসা আ. পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং তিনি দাজ্জালকে পরাজিত করবেন। তখন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে দাজ্জালের ঘটনা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এটি মানুষকে সত্যের পথে থাকা, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা এবং মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। তাই ইসলামে দাজ্জালের বিষয়ে সচেতন থাকা এবং আল্লাহর কাছে তার ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েল ও দাজ্জালের সম্পর্ক ঘাটলে আমরা ভবিষ্যতবাণীর সাথে মিল পেতে পারি অনেক কিছুই। ইসলামি বর্ণনায় বলা হয়, দাজ্জালের অনুসারীদের মধ্যে কিছু ইহুদি লোক থাকবে। এই কারণেই অনেক মুসলমানের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে দাজ্জাল ইসরায়েলের কাছে জনপ্রিয় হবে। দাজ্জালের প্রভাব বিস্তার ও আগমণ মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক হওয়ায় দীর্ঘদিন সেটি নিয়ে আলোচনা হতে থাকে যে দাজ্জাল হলো সেই শত্রু যার সাথে ইসরায়েলীদের সম্পর্ক থাকবে।
এবার মুসলিমদের সেই ধারণাকে আরো শক্ত অবস্থান দিলেন ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। তিনি আজ তার বক্তব্যর মাঝে বলেন, “আমরা আবার সেই রাজত্য তৈরি করব। মসিহর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবো।” ইহুদিদের মাসিহ হলো দাজ্জাল। দাজ্জালের আগমনের এই বার্তা আজ আল জাজিরা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। ইতিপূর্বে এমন বক্তব্য নিয়ে গুজব থাকলেও এবার যুদ্ধে কোণঠাসা ইসরায়েল ঘোষণা দিলো দাজ্জালের প্রত্যাবর্তনের। ইসলাম ও বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দাজ্জাল বা এই মসিহের আগমনের ক্ষমতা কোমো রাষ্ট্রের বা রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে নেই এমনটা ধর্ম গ্রন্থগুলোতে উল্লেখিত রয়েছে।
এরপরও ইহুদি ও পশ্চিমাদের তান্ডব ও জুলুমের মাত্রা মসিহের আগমণকে নির্দেশ করে বলে বিভিন্ন স্কলার মতামত দিয়েছেন অতীতে। ইসরায়েল প্রধাণমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যর পরে দাজ্জাল বা ইহুদিদের মসিহের আগঙনের বিষয়ে পুরো বিশ্ব একটি বার্তা পেলো। দাজ্জালের আগমণকে কেন্দ্র করে যে লাল গরু পালন করার খবর এতোদিন সোশাল মিডিয়ায় ঘুরতে দেখা যায়, সেটিও এবার আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করছেন একাধিক বিশ্লেষক।