{{ news.section.title }}
আমিরাতে ইরানের হামলার পর দুবাই বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ-প্রতিরোধী ব্যবস্থা বর্তমানে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা করছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে যে উচ্চ শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আসলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময়কার শব্দ।
এ ধরনের ঘোষণার মধ্যেই দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে একটি ড্রোন-সম্পর্কিত ঘটনায় আগুন লাগা এবং সতর্কতামূলকভাবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরের দিকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাতের পর আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত করে। পরে ধীরে ধীরে কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয় এবং একাধিক ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়।
রয়টার্স জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমিত আকারে ফ্লাইট পুনরায় শুরু হয়েছে; তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন এয়ারলাইন তাদের সূচি পরিবর্তন বা বাতিল করেছে। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু ফ্লাইট আল মাখতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা অন্যান্য কাছাকাছি বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
এমিরেটসের সীমিত সার্ভিস
ড্রোন ঘটনার পর দুবাই-ভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইন জানিয়েছে, তারা স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পর সীমিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে; তবে দিনভর অনেক ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সর্বশেষ আপডেট জানার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আকস্মিক স্থগিতাদেশে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্রও উঠে এসেছে। আপনার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, একজন যাত্রী বিবিসিকে বলেছেন, তারা এখনো বিমানবন্দরেই আটকে আছেন এবং আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন সংবাদমাধ্যম থেকেই। ওই যাত্রী জানান, প্রায় ৪০ মিনিট বিমানের ভেতর অপেক্ষার পর পাইলট ঘোষণা দেন-
‘একটি নিরাপত্তাজনিত ঘটনা হয়েছে এবং আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
(উদ্ধৃত অংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে-আপনার দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী।)
ইউএইতে “ইন্টারসেপশন সাউন্ড”-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই একাধিকবার জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারসেপশনের সময় বিস্ফোরণধর্মী শব্দ শোনা যেতে পারে। এ ধরনের সতর্কতার উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদে থাকা ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা।
আঞ্চলিক উত্তেজনায় বেসামরিক অবকাঠামোও ঝুঁকিতে
পটভূমিতে রয়েছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ঘিরে চলমান সংঘাত, যার প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় পড়ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বিমানবন্দর, বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলা/ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে-ফলে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল ও পর্যটন–বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগছে।
এপি জানায়, এই উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তা ইস্যুতে মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে; অন্যদিকে ইরানের হামলা-প্রতিহত এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা প্রস্তুতিও বাড়ছে।
বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলেও সতর্কতা থাকবে
বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এভিয়েশন হাব হওয়ায় এমন যে কোনো বিঘ্ন দ্রুত আন্তর্জাতিক রুটে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্বাভাবিক হলেও পরবর্তী নির্দেশনা, এয়ার ডিফেন্স অ্যালার্ট, আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা-সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন যাত্রীদের জন্য অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, এয়ারলাইনের আপডেট এবং ভ্রমণের আগে রুট/ট্রানজিট যাচাই করাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে।