একদিনে যে ২৫ স্থানে হামলা চালালো হিজবুল্লাহ

একদিনে যে ২৫ স্থানে হামলা চালালো হিজবুল্লাহ
ছবির ক্যাপশান, হিজবুল্লাহ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে গাজা-কেন্দ্রিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তারা উত্তর সীমান্তে ইসরায়েল-এর বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

সংঘাত শুরুর পর থেকেই হিজবুল্লাহ সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট হামলা, ড্রোন ব্যবহার এবং সীমিত আকারে স্থল অভিযান পরিচালনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার উদ্দেশ্য ইসরায়েলের সামরিক চাপকে বিভক্ত করা এবং হামাস-এর প্রতি পরোক্ষ সমর্থন জানানো। ১৮তম দিনের মতো চলছে ইরান ইসরায়েল আমেরিকার যুদ্ধ। যুদ্ধে ইরানের নিহতের সংখ্যা বেশি হলেও অবস্থানগতোভাবে ইরান এখনও এগিয়ে। ইরানের সাথে যুক্ত হয়েছে লেবাননের অস্ত্রধারী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গতো ২৪ ঘন্টায় হিজবুল্লাহ যেসকল অভিযান পরিচালনা করেছে তার তালিকা প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি।

০৮:৩৫ তায়বেহ প্রকল্পে একটি মেরকাভা ট্যাংক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, সরাসরি আঘাত হানে।

০৮:৫০ তায়বেহ প্রকল্পে দ্বিতীয় মেরকাভা ট্যাংক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, সরাসরি আঘাত হানে।

০৯:০০ থেকে ০৯:২০ ধ্বংস হওয়া ট্যাংক সরিয়ে নেওয়ার এলাকাকে দুই দফায় রকেট হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

১০:০০ তায়বেহ প্রকল্পে তৃতীয় মেরকাভা ট্যাংক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, সরাসরি আঘাত করে।

১০:০০ “কফার ইউভাল” বসতির উত্তরে অবস্থিত হাদবাত আল-আজেল স্থাপনায় রকেট হামলা চালানো হয়।

০৯:৩৫ খিয়াম এলাকায় স্টেডিয়াম ও আটক কেন্দ্রের মাঝামাঝি স্থানে জড়ো হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ওপর রকেট হামলা চালানো হয়।

০৩:০০ অধিকৃত সিরিয়ান গোলানে অবস্থিত কাতসাভিয়া ব্যারাকস-এ ড্রোনের ঝাঁক দিয়ে হামলা চালানো হয়।

০৬:০০ উত্তর অধিকৃত ফিলিস্তিনে রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটির রাডার সাইট ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ড্রোনের ঝাঁক দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

১৬ তারিখে এরকম সর্বমোট ২৫ টির বেশী স্থানে অপারেশন চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি থেকে নিয়মিত হামলার কারণে ইসরায়েলও পাল্টা বিমান হামলা ও আর্টিলারি শেলিং চালাচ্ছে। এতে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে এবং সীমান্ত অঞ্চলের বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, হিজবুল্লাহ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন বিশ্বশক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহ এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে ‘ক্যালিব্রেটেড’ বা সীমিত আক্রমণের কৌশল অনুসরণ করছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে তাদের ভূমিকা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ