{{ news.section.title }}
যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে হতাশ উপসাগরীয় দেশগুলো
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আগের মতো আস্থা আর দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সৌদি আরব, দুবাই,কাতার সহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের নীতি ও অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান এর বিভিন্ন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কঠোর প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে। এছাড়া জ্বালানি খাতে মতবিরোধও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। তেল উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণে OPEC+ দেশগুলোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার সাংঘর্ষিক হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় উপসাগরীয় দেশগুলো চীন এর দিকে ঝুঁকছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগে চীনের সক্রিয়তা তাদের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি করেছে। মানবাধিকার ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাকে অনেক উপসাগরীয় দেশ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্ককে অস্বস্তিতে ফেলছে। এদিকে United States withdrawal from Afghanistan এর মতো ঘটনাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন। পাশাপাশি ইসরায়েল কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও জনমনে প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারণে চীন ও রাশিয়া -এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই দুই দেশও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জ্বালানি ও কূটনৈতিক মতবিরোধ—এই সব কারণেই বিভিন্ন দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জোট ও কৌশল গড়ে তুলছে।