কাতারে ফের ভয়াবহ হামলা চালালো ইরান

কাতারে ফের ভয়াবহ  হামলা চালালো ইরান
ছবির ক্যাপশান, কাতারে হামলা | ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনায় হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে কাতার সরকার।

বুধবার (১৮ মার্চ) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। তবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে QatarEnergy আরেকটি বিবৃতি প্রদান করে।

সেখানে জানানো হয়, রাস লাফান ছাড়াও আরও বেশ কিছু এলএনজি স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পুরো অঞ্চলে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ইরানের হুমকি ও হামলার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিল। সেই তালিকায় কাতারের পাশাপাশি মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সামরেফ রিফাইনারি এবং আল হোসন গ্যাসক্ষেত্রর নামও ছিল।

এই হুমকির কিছুক্ষণের মধ্যেই কাতারসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কাতার এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। এর অংশ হিসেবে ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প এর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তিনি জ্বালানি ও পানি সরবরাহসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব
দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাস লাফান বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই হামলার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে জার্মানি, জাপান, ভারত এবং তুরস্ক-যেসব দেশ এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তারা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এর প্রভাব আরও বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্য দেশেও হামলার চেষ্টা
একই সময়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ে হাবশান গ্যাস কেন্দ্রর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

জরুরি বৈঠক সামনে
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। Al Jazeera জানিয়েছে, এই বৈঠকে ইরানের হুমকি ও সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।


সম্পর্কিত নিউজ