{{ news.section.title }}
ইরানি ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ইসরায়েল!
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যখন ইরান-এর উন্নত ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করেছে যা একাধিক সাবমিউনিশন বহন করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে—ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার ঝুঁকি বেড়েছে।
ইরান ক্রমশ বেশি করে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে বড় এলাকায় বহু ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে একসঙ্গে অনেকগুলো লক্ষ্যবস্তু তৈরি হয়, যা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সবগুলো ছোট বোমা ধ্বংস করে না, কারণ এগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর—বিশেষ করে যখন বেসামরিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে। এতে তারা তাদের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ করতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ইরান ৩৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে, যার প্রায় অর্ধেক বা সাম্প্রতিক সময়ে তার চেয়েও বেশি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল।
প্রতিটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড প্রায় ২৪ থেকে ৮০টি ছোট বোমা ছড়াতে পারে, যা সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বিস্তৃত হয়। এর মধ্যে কিছু বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে থেকে যায়, যা পরবর্তীতেও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এই হামলাগুলোর ফলে অন্তত ৯ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ১০০টির বেশি আঘাতের স্থান শনাক্ত হয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, বড় ধরনের হুমকি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য এই হুমকি মোকাবিলায় নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই উন্নয়ন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের একটি বড় অংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।