{{ news.section.title }}
যুদ্ধের ছায়ায়ও থামেনি ঈদ - উন্মুক্ত ময়দানে নামাজ পড়লেন ইরানিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও ইরানে ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে ধর্মীয় আবহ, শোক এবং প্রতিরোধের এক মিশ্র পরিবেশে। ৩০ রমজান শেষে শনিবার দেশটিতে ঈদ উদযাপনের দিনে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর থেকেই তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে। মসজিদের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় অনেকে বাইরে, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কেও নামাজে অংশ নেন। একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে আরাক, জাহেদান ও আবাদানের বিভিন্ন খোলা স্থানে।
তেহরানে ঈদের প্রধান জামাত
ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠী এ বছর অধিকাংশ সুন্নি অধ্যুষিত দেশের এক দিন পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে রাজধানী তেহরানের প্রধান ঈদ জামাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদ। সকালবেলার ফুটেজে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন। মসজিদের ভেতরে ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে বহু মুসল্লি বাইরে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করেন। যুদ্ধের ঝুঁকি সত্ত্বেও মানুষের এই উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
শুধু রাজধানী নয়, অন্যান্য শহরেও উন্মুক্ত ময়দানে জামাত
তেহরানের বাইরেও বিভিন্ন শহরে ঈদের জামাত হয়েছে খোলা জায়গায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ফুটেজ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, আরাক, জাহেদান এবং আবাদানেও মানুষ বড় দলে জমায়েত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, নিরাপত্তা উৎকণ্ঠা থাকলেও সাধারণ মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে স্থগিত করেননি; বরং উন্মুক্ত স্থানকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
ঈদের দিনেই শোকের আবহ
এ বছরের ইরানে ঈদ ছিল শুধু উৎসবের দিন নয়, একই সঙ্গে শোকেরও দিন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের ফুটেজভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নায়িনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠানেও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার তেহরানে খাতিবের জানাজায় ভিড় দেখা যায়, আর শনিবার নায়িনির জন্যও আলাদা শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে। অর্থাৎ ঈদের নামাজের সঙ্গে সঙ্গে নিহত কর্মকর্তাদের বিদায় জানানোও জনতার দিনের অংশ হয়ে ওঠে।
যুদ্ধের মধ্যেও জনসমাগম কী বার্তা দিচ্ছে
ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, ধর্মীয় সমাবেশ এখন শুধু ইবাদতের ক্ষেত্র নয়, প্রতীকী জনঅবস্থানও হয়ে উঠছে। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মৃত্যু-এই দুই বাস্তবতার মাঝেও বড় জনসমাগম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সরকার-সমর্থিত বয়ান এবং ধর্মীয় আবহ একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। একই সময় তেহরানের বেহেশত-এ জাহরা কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধাহত ও নিহতদের দাফনও অব্যাহত রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে ঈদের দিনটিও ইরানে উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে উঠেছে ধৈর্য, শোক এবং জনসমাবেশের দিন।
সূত্র : রয়টার্স