{{ news.section.title }}
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন
টানা দুই কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ করে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। একই ধারায় রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার (এপ্রিল ডেলিভারি) আরও বেশি চাপের মুখে পড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপর। বিনিয়োগকারীরা এখন সরাসরি ঝুঁকি নিতে চাইছেন না, বরং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়-তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বর্ণের দাম মূলত রাজনৈতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, দীর্ঘ চার সপ্তাহের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হলেও সরাসরি কোনো আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। এই দ্বৈত অবস্থান বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য ধাতুর বাজারেও একই ধরনের প্রভাব পড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনাম কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যার বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৬০ ডলার। পাশাপাশি প্যালাডিয়ামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে।
বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে টানা কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও তুলনামূলকভাবে কম অবস্থানে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের বাজার এখন বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। সামনে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বৈশ্বিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর।