{{ news.section.title }}
হামলার সময়সীমা পেছাতেই তেলের দামে পতন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই জ্বালানি বাজারে সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দেখা গেছে, যদিও সামগ্রিকভাবে বাজার এখনো উচ্চ ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার কথা জানানোর পর তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত আড়াইটার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের আশপাশে অবস্থান করে-এমন তথ্য বিভিন্ন বাজারসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের শুক্রবারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তেলদামের পতন অব্যাহত ছিল এবং তা সাম্প্রতিক ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের দিকে যাচ্ছিল। প্রতিবেদনে ব্রেন্টের দর ১০৭ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দর ৯৩ ডলারের ঘরে থাকার তথ্যও দেওয়া হয়েছে, যা দেখায় বাজারে উচ্চ অস্থিরতার কারণে দামে দ্রুত ওঠানামা চলছে।
ট্রাম্প কী বলেছেন
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সেটিকে সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি ১০ দিনের জন্য হামলা ঠেকিয়ে রাখবেন এবং এ সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও পরিষ্কার করেছেন যে, এই সময়সীমার মধ্যে সমাধান না হলে সামরিক বিকল্প আবারও সামনে আসতে পারে।
দাম কমলেও ঝুঁকি কাটেনি
বৃহস্পতিবার তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, কারণ বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে সরবরাহ আরও বড়ভাবে ব্যাহত হবে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত শুরুর পর তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সংকুচিত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের তীব্র উল্লম্ফন পুরোপুরি মুছে দিতে পারেনি। বিনিয়োগকারীরা এখনো ধরে নিচ্ছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাজার আবারও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাবে দামের বড় উল্লম্ফন
রয়টার্সের আগের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই-দুই বেঞ্চমার্ক তেলের দামই বড় পরিসরে বেড়ে যায়। সংঘাত, হরমুজে অচলাবস্থা এবং জ্বালানি রুটে হামলার ঝুঁকির কারণে বাজারে সরবরাহ সংকটের ভয় তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজার থেকে ১৩ থেকে ১৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হবে।
সাময়িক স্বস্তি, কিন্তু অনিশ্চয়তা বহাল
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ঘোষণায় বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরলেও সেটি এখনো স্থায়ী নয়। কারণ ইরান আলোচনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে, আর যুদ্ধের মাঠেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ফলে তেলের বাজার এখনো রাজনৈতিক ঘোষণার ওপর অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যদি দ্রুত না থামে, তাহলে দামের এই সাময়িক পতন আবার উল্টো পথে ঘুরে যেতে পারে।
সূত্রঃ রয়টার্স