{{ news.section.title }}
পাকিস্তানে ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী’র ঘাঁটিতে হামলা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে গোয়েন্দাভিত্তিক পৃথক দুই অভিযানে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে জিও নিউজ জানায়, নিহতরা “ভারতীয় প্রক্সি ফিতনা আল খাওয়ারিজ”–এর সদস্য বলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দাবি।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাইবার জেলার বারা এলাকা এবং বান্নু জেলায় এই দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। বারা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজনদের অবস্থান ঘিরে আক্রমণ চালায়। তীব্র গোলাগুলির পর সেখানে ১০ জন নিহত হয়। একই সময়ে বান্নু জেলার আরেকটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে আরও ৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়। দুই ক্ষেত্রেই অভিযান শেষে এলাকাজুড়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইএসপিআর এই অভিযানের পর আবারও জোর দিয়ে জানিয়েছে যে বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সামরিক বাহিনীর বক্তব্যে আজম-ই-ইস্তেহকাম কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যার আওতায় দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা “পূর্ণ গতিতে” চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ডন–এর প্রতিবেদনে এই অভিযানের তারিখ ৩০ মার্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় ১ এপ্রিল।
এই সাম্প্রতিক অভিযানের পেছনের বড় প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে পাকিস্তানজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়। একই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত বছর দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে; এর মধ্যে ৩ হাজার ৮১১টি খাইবার পাখতুনখোয়ায়, ১ হাজার ৫৫৭টি বেলুচিস্তানে এবং ২৯টি অন্যান্য এলাকায়। তিনি আরও দাবি করেন, এসব অভিযানে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন নিহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান জিও নিউজ, আরব নিউজ এবং দক্ষিণ এশিয়া টেররিজম পোর্টালেও প্রতিফলিত হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ডন–এর উল্লেখ করা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় গত বছর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে রয়টার্সও জানায়, আফগান সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র তৎপরতা পাকিস্তানের জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বারা ও বান্নুর এই সাম্প্রতিক অভিযানকে ইসলামাবাদ শুধু একটি তাৎক্ষণিক সাফল্য হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই তুলে ধরছে।