ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত - স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত -  স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র
ছবির ক্যাপশান, ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত - স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তুমুল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখলেও এবার নিহত সেনাদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত এই যুদ্ধ ৩৬ দিনে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রকাশ করেছে যে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছে। যুদ্ধে আহত সেনার সংখ্যা ৩৬৫ জন।

আহত সেনাদের মধ্যে ২৪৭ জন সেনাবাহিনীর সদস্য। মার্কিন নৌবাহিনীর সেনা রয়েছে ৬৩ জন। বিমান বাহিনীর আহত সেনাদের সংখ্যা ৩৬ জন এবং বাকি ১৯ জন মেরিন সেনা।

এদিকে গতকাল শুক্রবার, ইরান ২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এখন পর্যন্ত এতে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি দেশটি।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের একজন ক্রু'কে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পাইলটকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাটিতে পালটা হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের রাডারসহ বিভিন্ন সমরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ দূর্বল হয়ে যায়।

অপরদিকে ইসরায়েল ও আমেরিকা বরাবরই ইরানের বেসামরিক অঞ্চলে হামলা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর থেকে বেসামরিক অঞ্চলে এই হামলা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
বুধবার (১ এপ্রিল) ইরানের দক্ষিণের উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি 'শহীদ হাক্কানি বন্দর' এ ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। সাধারণ যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত এই বন্দরটি সম্পূর্ণ একটি বেসামরিক অঞ্চল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ জন। এদের মধ্যে ১ হাজার ৬০৭ জন বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে ২৪৪ জন। 

আরো পড়ুন: পাইলটকে উদ্ধারে ইরানে ঢুকে মার্কিন 'স্পেশাল ফোর্স'

ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর দীর্ঘদিন পর্যন্ত গোপন রাখলেও এবার তা প্রকাশ্যে আনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন অসংলগ্ন বক্তব্যের ফলে জনগণের আস্থা হারানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে খানিকটা বাধ্য হয়েই হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।
খুব শীঘ্রই হতাহতের আরো বড়ো সংখ্যা প্রকাশ হবে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


সম্পর্কিত নিউজ