ইরানের তেল বিক্রি ঠেকাতে একজোট হচ্ছে বিভিন্ন দেশ - ট্রাম্প

ইরানের তেল বিক্রি ঠেকাতে একজোট হচ্ছে বিভিন্ন দেশ - ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, ইরানের তেল বিক্রি ঠেকাতে একজোট হচ্ছে বিভিন্ন দেশ - ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে আরও কয়েকটি দেশ। রোববার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির বিষয়ে অনেক ইতিবাচক ঘটনা ঘটছে।”

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে ঘিরে নেওয়া নতুন পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে দেশটির তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়বে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আলোচনা ফলহীন থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী জাহাজ চলাচল ঠেকাতে নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিয়েছে, যা জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে খাটো করে দেখিয়ে বলেন, দেশটির বাহিনী এখন প্রায় “বিধ্বস্ত” অবস্থায় আছে। তিনি আরো বলেন, “তাদের পুরো নৌবাহিনী পানির নিচে।” রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে কঠোর করার পাশাপাশি ইরানের নৌ সক্ষমতা নিয়েও প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের পুরো নৌবাহিনী পানির নিচে।’

ট্রাম্প বলেন, সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হবে, কারণ অন্যান্য দেশগুলোও এখন ইরানকে তেল বিক্রি থেকে বিরত রাখতে সহযোগিতা করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেলের যোগান বন্ধ হয়ে যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই অবরোধ মূলত ইরানের বন্দরগামী ও ইরান থেকে বের হওয়া সামুদ্রিক চলাচলকে লক্ষ্য করবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অ-ইরানি গন্তব্যে যাওয়া জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, অনেক ট্যাংকার প্রণালিটি এড়ানোর জন্য পথ পরিবর্তন করছে। তার দাবি, “অনেক জাহাজ আমাদের দেশের দিকে আসছে তেল সংগ্রহ করার জন্য। তারা আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।” এই বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে রয়টার্স জানিয়েছে, নৌ অবরোধ কার্যকরের আগেই কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজমুখী রুট পরিবর্তন করেছে, কিছু জাহাজ আবার শেষ মুহূর্তে ইউ-টার্ন নিয়েছে। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্যেও দেখা গেছে, অনিশ্চয়তার কারণে বেশ কিছু অপারেটর ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “তারা ফিরে আসুক বা না আসুক, তাতেও আমার কিছু যায় আসে না। তারা যদি ফিরে না আসে, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।” কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী কূটনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও প্রধান মতভেদগুলো থেকে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং হরমুজে জাহাজ চলাচলের শর্ত-এসব বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। এপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, অবরোধ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও ব্রেন্ট ক্রুড-দুই বেঞ্চমার্কের দামই দ্রুত বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তেলের দামে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি করে। ফলে ট্রাম্পের এই অবস্থান শুধু কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।

সূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ