ইরানের সেনাবাহিনী বলছে, হরমুজ অবরোধের মার্কিন পরিকল্পনা ‘জলদস্যুতার শামিল’

ইরানের সেনাবাহিনী বলছে, হরমুজ অবরোধের মার্কিন পরিকল্পনা ‘জলদস্যুতার শামিল’
ছবির ক্যাপশান, ইরানের সেনাবাহিনী বলছে, হরমুজ অবরোধের মার্কিন পরিকল্পনা ‘জলদস্যুতার শামিল’

আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপকে “অবৈধ” ও “দস্যুতা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা করেছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ কার্যত জলদস্যুতার শামিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, সোমবার (জিএমটি ১৪:০০) থেকে ইরানের সব বন্দরগামী ও বন্দর ত্যাগকারী জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা হবে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ দেওয়া হবে এবং ইরানকে এটি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।

ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও জানায়, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পুরো অঞ্চলেই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় থাকলেও পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ইরান কেবলমাত্র চীনের মতো ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় সোমবার আবারও প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় সূচক।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অবরোধ সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, যদি সেগুলো ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা প্রস্থান করে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগামী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে বাধার সম্মুখীন হবে না।

অন্যদিকে, চীনসহ বিভিন্ন দেশ এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

এছাড়া ন্যাটো মিত্র স্পেনও এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রব্লেস বলেন, এটি চলমান সংকটকে আরও গভীর করবে।

একই সুরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধে অংশ নেবে না এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে জড়াবে না।

সূত্রঃ আলজাজিরা


সম্পর্কিত নিউজ