ঘণ্টায় ২৬০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে হ্যারিকেন অ্যারিন

ঘণ্টায় ২৬০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে হ্যারিকেন অ্যারিন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Muhammad Qutayba

মহাশক্তিশালী ক্যাটাগরি–৫ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে হ্যারিকেন অ্যারিন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) তথ্যমতে, ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ মাইল বা ২৬০ কিলোমিটার। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই ঝড়ের গতি অন্তত ৩৪ মাইল বেড়ে বিস্ফোরক শক্তি অর্জন করেছে। এনএইচসি পরিচালক মাইক ব্রেনান এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, অ্যারিন রাতারাতি “অত্যন্ত শক্তিশালী” আকার ধারণ করেছে এবং “বিস্ফোরকভাবে গভীর ও তীব্র” হয়েছে।

বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থান করছে অ্যারিন। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে এটি লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ, ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং পুয়ের্তো রিকোর উত্তর অংশ অতিক্রম করবে। এতে সর্বোচ্চ ৬ ইঞ্চি বা ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াবে। ঝড়টি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বাহামার পূর্ব দিক ঘেঁষে উত্তর ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকসের দিকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএইচসি সতর্ক করেছে, হ্যারিকেন অ্যারিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পুরো পূর্ব উপকূলে প্রাণঘাতী ঢেউ ও রিপ কারেন্ট সৃষ্টি করবে। এর মধ্যে ফ্লোরিডা ও মিড-অ্যাটলান্টিক অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঢেউ সবচেয়ে বিপজ্জনক হতে পারে। বারমুডাতেও প্রাণঘাতী ঢেউ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রিপ কারেন্টকে সৈকতের কাছাকাছি সৃষ্ট সংকীর্ণ ও শক্তিশালী স্রোত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সাঁতারুদের দ্রুত সমুদ্রের গভীরে টেনে নেয়।

প্রবল বাতাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ড ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট থমাস ও সেন্ট জন দ্বীপের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সান হুয়ানসহ পুয়ের্তো রিকোর ছয়টি পৌরসভায়ও জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ২০২৫ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হ্যারিকেন হলেও আরও শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন (এনওএএ) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে আটলান্টিকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক হ্যারিকেন সৃষ্টি হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্যাটাগরি–৪ ও ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঝড় বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে অ্যারিন সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা নেই। তবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিপজ্জনক ঢেউ, ভারী বর্ষণ ও বন্যার ঝুঁকিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ