আন্তর্জাতিক
গুয়াতেমালায় গ্যাং সহিংসতায় ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
গুয়াতেমালায় কারাগারে গ্যাং সদস্য কয়েদিদের দাঙ্গা সহিংসতা, কারা কর্মীদের জিম্মি, পুলিশ হত্যার জেরে ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো। এই দাঙ্গায় রাজধানীতে অন্তত সাতজন পুলিশ নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট আরেভালো জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার ভাষণে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো যাতে আমরা গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই থামিয়ে দিই। কিন্তু তারা ব্যর্থ হবে। এর মধ্যেই সব জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন তিনি।
এই জরুরি অবস্থায় নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
এই আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গুয়াতেমালায় তিনটি কারাগারে গ্যাং সদস্যরা দাঙ্গা শুরু করে। গ্যাং নেতাদের বিশেষ সুবিধা সীমিত করার প্রতিক্রিয়ায় এমন শুরু করে সদস্যরা। এই নেতাদের একজন কুখ্যাত বারিও-১৮ গ্যাংয়ের বন্দি আলদো ডুপ্পি যে ‘এল লোবো’ বা ‘দ্য উলফ’ নামে পরিচিত। দাঙ্গার সময় গ্যাং বন্দিরা ৪৬ জন কারা প্রহরী ও কর্মচারীকে জিম্মি করে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযানে তিনটি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই অভিযানের পর এল লোবোকে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে দেখা যায়।
এদিকে কারাগারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরপরই গ্যাং সদস্যরা রাজধানীতে পুলিশদের লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। এতে সরকারি হিসাবে অন্তত ৭জন পুলিশ নিহত এবং ১০ জন আহত হন।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিয়েদা বলেন, পুলিশের ওপর এই হামলাগুলো ছিল গুয়াতেমালা রাষ্ট্র গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়ায় চালানো প্রতিশোধ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেনরি সায়েন্স বলেন, গ্যাং দমনে সেনাবাহিনী রাস্তায় মোতায়েন থাকবে।