যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম দিতে, চীনের প্রভাব কমাতে প্রস্তুত নীতি

যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম দিতে, চীনের প্রভাব কমাতে প্রস্তুত নীতি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

ব্যাকগ্রাউন্ড দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের প্রভাব কমে যাওয়ায় চীন বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি ও প্রভাব জোরালো করেছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে চীনের সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আগ্রহী।

রয়টার্সের সঙ্গে আলাপের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে নির্দিষ্ট চুক্তির ঝুঁকি তুলে ধরতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, “বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীল না হয়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রদানের প্রস্তাব দিচ্ছে।”

চীনের সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ভারতের সীমান্তে ড্রোন ফ্যাক্টরি নির্মাণ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে এবং তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপে তা প্রভাবিত হবে না।


যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বহুমাত্রিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে। চীনের সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমানো, নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সুবিধা, এবং বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা সম্পর্ক শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। এছাড়া, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বিকল্প গ্রহণে দেশকে আরও স্বাধীন ও নীতি নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ মিলবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব কেবল সামরিক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহও লক্ষ্যযোগ্য। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেছেন, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগের দিকে নজর রাখছে এবং তারা নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাইছে, যাতে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

এ পরিস্থিতি বাংলাদেশকে একটি কৌশলগত অবস্থানে রাখছে-যেখানে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।


সম্পর্কিত নিউজ