কী ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত ট্রাম্প? ভেতর থেকে পঁচে যাচ্ছে শরীর!

কী ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত ট্রাম্প? ভেতর থেকে পঁচে যাচ্ছে শরীর!
ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘাড়ে লালচে দাগ | ছবি: এএফপি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েকটি ক্লোজ-আপ ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ছবিতে ট্রাম্পের ঘাড়ের ডান পাশে লালচে র‍্যাশ/স্ক্যাবিং এবং হাতে কালচে-বেগুনি দাগ দেখা যাওয়ায় অনলাইনে নানা ধরনের দাবি ছড়ায় কেউ এটিকে “ভয়ংকর সংক্রামক রোগ” বলে প্রচার করেন, আবার কেউ “ভেতর থেকে শরীর পচে যাওয়ার” মতো ভিত্তিহীন মন্তব্যও করেন।

তবে হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক এসব দাবিকে নাকচ করে বলছেন, দৃশ্যমান দাগগুলোর পেছনে রয়েছে তুলনামূলকভাবে সাধারণ ব্যাখ্যা-ত্বকের একটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও রক্ত পাতলা রাখার ওষুধের প্রভাব।

ভাইরাল ছবিতে কী দেখা গেছে

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে ট্রাম্পের ঘাড়ের ডান পাশে (কানের কাছাকাছি অংশ থেকে কলারের ওপর দিকে) লালচে দাগ ও কিছুটা খসখসে/স্ক্যাবিং ধরনের চিহ্ন দেখা যায়। একই সঙ্গে তাঁর হাতের পেছনের অংশে (বিশেষ করে বুড়ো আঙুলের আশপাশে) একাধিকবার কালশিটে পড়ার মতো দাগ আগেও আলোচনায় এসেছে। এসব দৃশ্য দেখে অনলাইনে অনেকে শিংগলস, রক্তজনিত রোগ, এমনকি গুরুতর সংক্রমণের মতো অনুমান করতে থাকেন-যার বেশিরভাগই কোনো চিকিৎসা–প্রমাণ ছাড়াই করা হয়েছে।

ঘাড়ের র‍্যাশ নিয়ে চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: “প্রিভেন্টেটিভ স্কিন ট্রিটমেন্ট”

এই বিতর্কের পর ট্রাম্পের চিকিৎসক ডা. শন বারবারবেলা (Sean Barbabella) বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্পের ঘাড়ের ডান পাশে যে লালচে র‍্যাশ দেখা যাচ্ছে, তা একটি প্রেসক্রিপশন “প্রিভেন্টেটিভ স্কিন ট্রিটমেন্ট” (প্রতিরোধমূলক ত্বক চিকিৎসা) হিসেবে ব্যবহৃত ক্রিম/টপিকাল ট্রিটমেন্টের সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের চিকিৎসায় অস্থায়ী লালভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে তা কমে আসে।

People-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিন একটি অনুষ্ঠানে র‍্যাশটি বেশি চোখে পড়লেও পরদিন তা তুলনামূলক কম দেখা গেছে এবং কিছু ছবিতে সেটি মেকআপ দিয়ে ঢাকার মতোও মনে হয়েছে।
Independent–ও চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট একটি “খুবই সাধারণ” ক্রিম ব্যবহার করছেন, যা হোয়াইট হাউস ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া। তবে ক্রিমটি ঠিক কী প্রতিরোধে দেওয়া হয়েছে-সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

হাতে কালশিটে দাগ: “হাই-ডোজ অ্যাসপিরিন + ঘন ঘন হ্যান্ডশেক”

ট্রাম্পের হাতে বারবার কালশিটে দাগ পড়া নিয়েও আগে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নিজেই একবার তাঁর হাতের দাগের ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন-তিনি অ্যাসপিরিন খান, যা রক্ত পাতলা রাখতে সাহায্য করে; ফলে সহজেই ব্রুজ/কালশিটে পড়তে পারে।
আর নরথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়-হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই দাগকে ঘন ঘন হ্যান্ডশেক এবং অ্যাসপিরিন ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে বলেন, অ্যাসপিরিনের মতো ব্লাড-থিনিং প্রভাব থাকা ওষুধে সামান্য আঘাতেও ব্রুজ সহজে দেখা দিতে পারে-বিশেষ করে বয়স বাড়লে ত্বক পাতলা/সংবেদনশীল হওয়ায়।

People-এর আরেক প্রতিবেদনে উঠে আসে-ট্রাম্প দাবি করেছেন তিনি “কম ডোজ নয়, তুলনামূলক বেশি ডোজ” অ্যাসপিরিন নেন; এবং প্রয়োজন হলে হাতে দ্রুত মেকআপ ব্যবহার করেন।
এদিকে, রয়টার্সের রিপোর্ট পুনঃপ্রকাশিত আরব নিউজ/আওসাতেও উল্লেখ আছে-চিকিৎসকদের একটি অংশ মনে করেন, অ্যাসপিরিন ব্রুজিংয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

“ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি” প্রসঙ্গ: কী এবং কতটা গুরুতর?

অনলাইনে জল্পনায় আরও একটি বিষয় ঘুরেফিরে এসেছে-Chronic Venous Insufficiency (CVI) বা শিরা-সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এ রোগে পা/পায়ের শিরায় রক্ত ঠিকভাবে হার্টে ফেরত যেতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে, ফলে পায়ে ফোলা, ভারীভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। UC Davis Health-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-এটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ একটি অবস্থা, যেখানে শিরার ভাল্‌ভ দুর্বল হলে রক্ত জমে থাকতে পারে এবং উপসর্গ তৈরি হয়।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নিউজরুমেও উল্লেখ করা হয়েছে-হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে CVI–কে “benign and common condition” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) বা আর্টেরিয়াল ডিজিজের প্রমাণ মেলেনি-এমন বক্তব্যও প্রতিবেদনে আসে।
তবে ঘাড়ের র‍্যাশ ও হাতের ব্রুজিং-দুটোর সঙ্গে CVI সরাসরি যুক্ত-এমন কোনো সরকারি/চিকিৎসক-নিশ্চিত ব্যাখ্যা এই মুহূর্তে নেই; বরং এগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম অনুমান চলছে।

গুজব বনাম যাচাই

এই ইস্যুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-ছবি দেখে রোগ নির্ণয় করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নির্ভরযোগ্য নয়। ঘাড়ের র‍্যাশ সম্পর্কে ট্রাম্পের চিকিৎসক “প্রিভেন্টেটিভ স্কিন ট্রিটমেন্ট”–এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন-এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্দিষ্ট অফিসিয়াল ব্যাখ্যা।
অন্যদিকে হাতে কালশিটে দাগ নিয়ে রয়টার্সে ট্রাম্পের অ্যাসপিরিন–সংক্রান্ত বক্তব্য এবং হোয়াইট হাউসের ‘হ্যান্ডশেক’ ব্যাখ্যা রয়েছে।
আর “ভেতর থেকে পচে যাচ্ছে”, “ভয়ংকর সংক্রামক ব্যাধি”-এ ধরনের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা চিকিৎসক-সমর্থিত তথ্য প্রকাশ হয়নি।

ঘাড়ের র‍্যাশ ও হাতে ব্রুজিং

ঘাড়ের র‍্যাশ ও হাতে ব্রুজিংয়ের মতো বিষয়গুলো রাজনীতিতে দ্রুত ভাইরাল হলেও, বাস্তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-হোয়াইট হাউস কি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত মেডিক্যাল তথ্য প্রকাশ করবে কি না। Independent-কে দেওয়া বক্তব্যে চিকিৎসক ক্রিমের ধরন/কেন দেওয়া হয়েছে-সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, যা জল্পনা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে-র‍্যাশটি সময়ের সঙ্গে কমেছে/ঢাকা হয়েছে বলে মনে হয়েছে, যা “সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া” ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


সম্পর্কিত নিউজ