{{ news.section.title }}
কত শতাংশ মার্কিনরা ইরান যুদ্ধ শেষ চাইছে?
ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনমত এখন পরিষ্কারভাবে যুদ্ধ-সমাপ্তির পক্ষে ঝুঁকছে। সিবিএস নিউজ ও ইউগভের নতুন জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ শতাংশ নাগরিক চান ইরান যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক। জরিপটি ১৭ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হয় এবং এতে ৩,৩৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মতামত দেন। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতি বা সামরিক কৌশলের বিষয় নয়; এটি সাধারণ আমেরিকানের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্নেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আমেরিকানরা
জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের বড় অংশ কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ৮০ শতাংশ বলেছেন, ইরানের জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ৭৩ শতাংশ মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি। ৬৮ শতাংশ বলেছেন, অন্য দেশের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি বন্ধ হওয়া উচিত। আর সবচেয়ে বড় সংখ্যাটি এসেছে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রশ্নে-৯২ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। অর্থাৎ মার্কিন জনমত একদিকে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক-এমন অবস্থানে নেই।
শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন প্রশ্নে বিভক্ত মত
ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে প্রো-যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব আনার প্রশ্নে আমেরিকানদের অবস্থান একরৈখিক নয়। জরিপে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি নেতৃত্ব আনা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ৫১ শতাংশ তা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি। এই ফলাফল দেখাচ্ছে, মার্কিন সমাজে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে একধরনের সীমা আছে। অনেকে ইরানের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক হুমকি কমাতে চান, কিন্তু সবাই শাসনব্যবস্থা বদলকে অপরিহার্য লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন না।
যুদ্ধ ‘প্রয়োজনীয়’ না ‘ইচ্ছাকৃত’
এই জরিপের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো যুদ্ধের চরিত্র নিয়ে জনমত। প্রশ্ন ছিল, বর্তমান সংঘাতকে মানুষ “war of necessity” নাকি “war of choice” হিসেবে দেখছেন। ফলাফলে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, এটি প্রয়োজনীয় যুদ্ধ। বিপরীতে ৬৬ শতাংশের মত, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মানুষ মনে করছেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত অথবা এটি বাধ্যতামূলক ছিল না। এই ধারণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নৈতিক ও জনসমর্থনের ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে।
সামরিক পদক্ষেপে সমর্থনের চেয়ে বিরোধিতা বেশি
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ৪০ শতাংশ সমর্থন করেছেন, আর ৬০ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন। এটি দেখায় যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রশাসনের অবস্থান জনগণের বড় অংশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। একই সঙ্গে আরও ৫৩ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। ফলে সামরিক জড়িত হওয়ার সীমা নিয়েও জনমত তুলনামূলক সতর্ক।
ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা নিয়ে অসন্তোষ
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য কী। মাত্র ৩২ শতাংশ বলেছেন, প্রশাসন সেই লক্ষ্য পরিষ্কার করেছে। অর্থাৎ যুদ্ধ চলছে, কিন্তু এর শেষ কোথায়, লক্ষ্য কী, সাফল্য কীভাবে মাপা হবে-এসব প্রশ্নে জনগণের বড় অংশের আস্থা তৈরি হয়নি। এই অনিশ্চয়তা যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
যুদ্ধ আমেরিকার জন্য ভালো যাচ্ছে কি?
যুদ্ধের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়েও নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট। ১৭ শতাংশ বলেছেন, যুদ্ধ খুব ভালো যাচ্ছে এবং ২৬ শতাংশ বলেছেন, কিছুটা ভালো যাচ্ছে। কিন্তু ২৯ শতাংশের মতে, এটি কিছুটা খারাপ যাচ্ছে এবং ২৮ শতাংশের মতে, খুব খারাপ যাচ্ছে। অর্থাৎ মোট ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, যুদ্ধ আমেরিকার জন্য খারাপ দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ৪৯ শতাংশ মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে কম নিরাপদ করবে, আর ৬৩ শতাংশের মতে এটি স্বল্পমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিকে দুর্বল করবে।
অর্থনীতি ও ব্যক্তিজীবনে প্রভাবের আশঙ্কা
এই যুদ্ধ কেবল পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই-সাধারণ আমেরিকানরা এর অর্থনৈতিক অভিঘাতও অনুভব করছেন। জরিপ অনুযায়ী, ২৯ শতাংশ মনে করেন স্বল্পমেয়াদে এই সংঘাত তাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনে “অনেক” প্রভাব ফেলবে, আর ৪২ শতাংশ বলেন “কিছুটা” প্রভাব ফেলবে। অর্থাৎ ৭১ শতাংশই কোনো না কোনো মাত্রায় ব্যক্তিগত প্রভাবের আশঙ্কা করছেন। একই জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ নাগরিক মনে করেন সংঘাত মার্কিন অর্থনীতিকে দুর্বল করবে। জ্বালানির দাম, বাজার অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ মুদ্রাস্ফীতির ভয়-সব মিলিয়েই এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।